ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ! বড় ঘোষণা ট্রাম্পের, পরমাণু ইস্যুতে কি পিছু হঠল তেহরান?

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর কি তবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণায় বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জর্জিয়ায় এক ভার্চুয়াল র্যালিতে ভাষণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দীর্ঘদিনের যুদ্ধ শেষ হয়েছে এবং তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি ও পরিকল্পনার নেপথ্যে:
ট্রাম্পের কথায়, “আমরা আজ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করেছি। ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ইরান সবথেকে শক্তিশালী উপায়ে পরমাণু অস্ত্র না বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।” এমনকি তিনি জানিয়েছেন, এই সপ্তাহান্তেই ইউরোপে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের উপস্থিতিতে চূড়ান্ত চুক্তি সই হতে পারে। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি এও জানান যে, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর সমর্থন রয়েছে।
তেহরানের কঠোর অবস্থান:
ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাসী ঘোষণার ঠিক উল্টো সুর শোনা যাচ্ছে ইরানের কণ্ঠে। তেহরানের সরকারি কোনো পক্ষ থেকেই এখনো এমন কোনো চূড়ান্ত চুক্তির কথা স্বীকার করা হয়নি। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাঈ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “চুক্তি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।”
ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ আবার ট্রাম্পের দাবিকে কটাক্ষ করে বলেছে, গত দুই মাসে ট্রাম্প অন্তত ৩৮ বার দাবি করেছেন যে চুক্তি “আসন্ন”। তাই সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই দাবিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তেহরান।
পর্দার আড়ালের কূটনীতি:
যদিও দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বার্তায় অমিল রয়েছে, তবে ‘অ্যাক্সিওস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পর্দার আড়ালে বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। কাতারের মধ্যস্থতায় তেহরানে বুধবার রাত পর্যন্ত আলোচনা চলেছে। মূলত তিনটি বিষয়ে সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে:
ইরানের আটকে থাকা অর্থ মুক্ত করা।
৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্তে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া।
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি করা।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিগতভাবে চুক্তির খসড়া তৈরি হলেও, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বিষয়টি। যতক্ষণ না সেই সীলমোহর পড়ছে, ততক্ষণ এই “যুদ্ধ শেষ”-এর দাবি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। ট্রাম্প অবশ্য জানিয়েছেন, চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ বজায় থাকবে।