জেল থেকে ফিরেই বড় চমক! বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়!

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ কারাবাসের পর জামিনে মুক্ত হতেই স্বমহিমায় ফিরছেন বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জেল থেকে বেরনোর কিছুদিনের মধ্যেই বিধানসভার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে ফের সক্রিয় হতে দেখা গেল তাঁকে। এবার বিধানসভার দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যান্ডিং কমিটিতে জায়গা দেওয়া হলো রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে। আবাসনের পাশাপাশি অগ্নি নির্বাপণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন তিনি।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই নতুন ইনিংসকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে ধেয়ে আসছে একের পর এক আক্রমণ। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে বলেন, “পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভার কমিটিতে জায়গা দেওয়া মোটেও আশ্চর্যের নয়। তৃণমূল কংগ্রেস তাকে হয়তো আগামী নির্বাচনে প্রার্থীও করবে। অমিত শাহজি আগেই চ্যালেঞ্জ করে গিয়েছেন যে, যদি তৃণমূল টিকিট না দেয় তবেই বোঝা যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতির সমর্থন করেন না।” শুভেন্দু আরও যোগ করেন, “অনুব্রত মণ্ডলের ক্ষেত্রেও আমরা দেখেছি তাঁর নিরাপত্তা বেড়েছে, পদোন্নতি হয়েছে। অর্থাৎ, এই দলে যে যেমন কাজ করবেন, তিনি তত বেশি মর্যাদা পাবেন।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কুণাল ঘোষ এ প্রসঙ্গে বলেন, “কোন বিধায়ক কোন স্ট্যান্ডিং কমিটিতে থাকবেন, তা সম্পূর্ণ বিধানসভার এক্তিয়ারভুক্ত বিষয়। একজন সিটিং এমএলএ হিসেবে স্ট্যান্ডিং কমিটিতে থাকা তাঁর আইনি অধিকার। এর সঙ্গে দলীয় রাজনীতির বা দুর্নীতির মামলার কোনও সম্পর্ক নেই। সংসদীয় বা বিধানসভার ক্ষেত্রে যে কোনও বিধায়ক বা সাংসদ এই ধরণের কমিটির অংশ হতে পারেন।”
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৩ জুলাই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। টানা তিন বছর তিন মাস জেল হেফাজতে থাকার পর গত নভেম্বর মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার সময় তাঁর অনুগামীদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘পার্থদা জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখরিত হয়েছিল হাসপাতাল চত্বর। তাঁর অনুগামীদের দাবি ছিল, পার্থ চট্টোপাধ্যায় গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। জেলমুক্তির পর এবার বিধানসভার কমিটিতে ফেরায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে—তবে কি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে পার্থর গুরুত্ব আবার ফিরে আসছে?