মাঝরাতে রণক্ষেত্র মেদিনীপুর! বিজেপি কর্মীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা, পুলিশ সুপারের দপ্তরে ধুন্ধুমার কাণ্ড!

মঙ্গলবার গভীর রাতে চরম উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। কেশপুরের আনন্দপুর এলাকায় বিজেপির বুথ স্তরের বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিজেপি নেতা-কর্মীদের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ২০ জন বিজেপি কর্মী, যাদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে রাতভর মেদিনীপুর পুলিশ সুপারের (SP) দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন বিজেপি নেতৃত্ব।

ঘটনার সূত্রপাত: বিজেপি সূত্রে খবর, মঙ্গলবার কেশপুর বিধানসভার আনন্দপুর সাত নম্বর রাম কাটা অঞ্চলে ‘বুথ বিজয় সংকল্প অভিযান’ কর্মসূচি ছিল। বৈঠক শেষ করে বিজেপি কর্মীরা যখন বাড়ির পথে রওনা দেন, তখনই আচমকা লাঠিসোটা ও অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগের আঙুল সরাসরি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। চোখের পলকে ভাঙচুর করা হয় বিজেপি কর্মীদের একাধিক বাইক ও গাড়ি।

বিজেপির অভিযোগ ও পুলিশের ভূমিকা: বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তন্ময় দাস জানান, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ অসহযোগিতা করে। উল্টে তাঁদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশের এই পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ বিজেপি নেতৃত্ব পুলিশ সুপারের দপ্তরের মূল গেট আটকে অবস্থানে বসে পড়েন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়।

শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপ: আন্দোলন চলাকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ভিডিও কলের মাধ্যমে জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আহতদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন এবং অনলাইন মারফত পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেন। শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর বিজেপি কর্মীরা দীর্ঘ সময় অবস্থান চালিয়ে যান।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সুকেশ সরেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তৃণমূল যে পথে আমাদের মারধর করছে, ২০২৬ সালের পর প্রতিটি আঘাতের ঋণ সুদে-আসলে মিটিয়ে দেওয়া হবে।” অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, “বিজেপির কর্মীরা মদ্যপ অবস্থায় নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছে এবং স্থানীয় মহিলাদের শ্লীলতাহানি করেছে। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনো যোগ নেই।”