‘ভারত ছেড়ে চলে যান!’ হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটাকে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের

হোয়াটসঅ্যাপের ডেটা শেয়ারিং এবং বিতর্কিত প্রাইভেসি পলিসি নিয়ে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন টেক জায়ান্ট মেটা-কে তুলোধোনা করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে কোনো রকম আপোশ করা হবে না। শুনানির এক পর্যায়ে কড়া ভাষায় প্রধান বিচারপতি বলেন, “যদি আমাদের সংবিধান মেনে চলতে না পারেন, তবে ভারত ছেড়ে চলে যান।”

আদালতের পর্যবেক্ষণ: এদিন প্রধান বিচারপতি নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, হোয়াটসঅ্যাপে ডাক্তারকে সর্দি-কাশির কথা লিখলেই মোবাইলে ওষুধের বিজ্ঞাপন আসতে শুরু করে। এটি ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর সরাসরি আঘাত। আদালতের প্রশ্ন, বিহারের প্রত্যন্ত গ্রাম বা তামিলনাড়ুর কোনো সাধারণ মানুষ কি হোয়াটসঅ্যাপের এই জটিল নীতি বুঝতে সক্ষম? শীর্ষ আদালত একে ‘ব্যক্তিগত তথ্য চুরি’ এবং ‘শোষণমূলক নীতি’ বলে অভিহিত করেছে।

কড়া নির্দেশ: অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের কোনো তথ্য মেটার সঙ্গে ভাগ করতে পারবে না। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই নীতিকে ‘শোষণমূলক’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে মেটার আইনজীবী মুকুল রোহতগি ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’-এর দোহাই দিলেও আদালত তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে শীর্ষ আদালত।