স্বেচ্ছায় স্বামীকে ত্যাগ করলে মিলবে না কানাকড়িও! ভরণপোষণ নিয়ে কেরালা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়

বিবাহবিচ্ছেদ এবং ভরণপোষণ বা খোরপোশ সংক্রান্ত মামলায় এক যুগান্তকারী রায় দিল কেরালা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি কোনো স্ত্রী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই স্বেচ্ছায় স্বামীকে ছেড়ে চলে যান, তবে তিনি স্বামীর কাছ থেকে অতীতের বা বর্তমানের কোনো ভরণপোষণ (Maintenance) পাওয়ার অধিকারী নন। বিচারপতি সতীশ নিনান এবং বিচারপতি পি কৃষ্ণ কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ পারিবারিক আদালতের একটি পূর্ববর্তী নির্দেশ বাতিল করে এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলার প্রেক্ষাপট: মামলাটি ২০০৩ সালের একটি খ্রিস্টান বিবাহের সাথে জড়িত। বিয়ের কিছুদিন পর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাপের বাড়ি চলে যান এবং ২০০৫ সালে সন্তানের জন্মের পরও আর স্বামীর কাছে ফিরে আসেননি। স্বামী পারিবারিক আদালতে ‘পরিত্যাগ’-এর (Desertion) গ্রাউন্ডে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। পারিবারিক আদালত বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করার পাশাপাশি স্বামীকে নির্দেশ দিয়েছিল স্ত্রীকে অতীতের ভরণপোষণ বাবদ ২৫,৫০০ টাকা এবং সন্তানকে ৮,০০০ টাকা দিতে। এই নির্দেশের বিরুদ্ধেই হাইকোর্টে আপিল করেন স্বামী।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনের ব্যাখ্যা: হাইকোর্ট ১৮৬৯ সালের বিবাহবিচ্ছেদ আইনের ওপর ভিত্তি করে জানায় যে, ‘পরিত্যাগ’ বলতে বোঝায় অন্য পত্নীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে এবং কোনো ‘ন্যায্য কারণ ছাড়া’ বিবাহ ত্যাগ করা। আদালত বলে, যখন একবার প্রমাণিত হয়েছে যে স্ত্রী কোনো কারণ ছাড়াই স্বামীকে ছেড়ে আলাদা থাকছেন, তখন তাঁকে ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া আইনত ভুল। আদালত সাফ জানায়, “বিবাদী (স্ত্রী) আপিলকারীকে (স্বামী) কোনো কারণ ছাড়াই ত্যাগ করেছেন, তাই তিনি খোরপোশ দাবি করতে পারেন না।”

গয়না ফেরতের নির্দেশ বহাল: ভরণপোষণ বাতিল করলেও আদালত স্ত্রীর গয়না এবং অর্থ ফেরতের নির্দেশ বহাল রেখেছে। বিয়ের সময় উপহার হিসেবে পাওয়া ২৮ ভরি সোনার গয়না বা তার বাজার মূল্য এবং পরিবার থেকে প্রাপ্ত অর্থ স্ত্রীকে ফিরিয়ে দিতে হবে বলে আদালত জানিয়েছে। স্বামীর যুক্তি ছিল যে তিনি নিজের টাকা দিয়ে গয়না কিনেছেন, কিন্তু আদালত সেই যুক্তিতে কোনো সারবত্তা খুঁজে পায়নি। তবে খোরপোশ নিয়ে আদালতের এই অবস্থান ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে নজির হয়ে থাকবে।