ভারত ম্যাচ বয়কট পাকিস্তানের! মাঠ ছাড়বে বাবররা, তবুও টসে নামতে তৈরি সূর্যকুমার যাদবরা

সীমান্তের ওপার থেকে যতই বয়কটের হুমকি আসুক, ভারতীয় শিবিরে তার কোনও প্রভাব নেই। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারত-পাকিস্তান মহারণ হওয়ার কথা। কিন্তু পাকিস্তান সরকার ও পিসিবি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা বিশ্বকাপে খেললেও ভারতের বিরুদ্ধে কোনও ম্যাচ খেলবে না। পাকিস্তানের এই ‘জেদ’কে আমল না দিয়ে বিসিসিআই কিন্তু তাদের নির্ধারিত সূচি মেনেই এগোচ্ছে। সূর্যকুমার যাদব বাহিনী জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তান আসুক বা না আসুক, ভারত মাঠে নামবে এবং টসের জন্য তৈরি থাকবে।
পাক বোর্ডের ‘বুমেরাং’ সিদ্ধান্ত: অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতের কাছে পর্যুদস্ত হওয়ার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বয়কটের কথা জানায় পাকিস্তান। আইসিসি ইতিমধ্যেই পাকিস্তানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছে। যদি তারা ভারতের বিরুদ্ধে না খেলে, তবে বিপুল আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি পাকিস্তান সুপার লিগে (PSL) বিদেশি ক্রিকেটারদের খেলার এনওসি (NOC) বন্ধ করে দেবে আইসিসি। ফলে এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্যই হিতে বিপরীত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের অনড় অবস্থান: বিসিসিআই সূত্রে খবর, ভারতীয় দল নির্ধারিত সময়েই কলম্বো পৌঁছাবে এবং অনুশীলন সারবে। এমনকি ম্যাচের দিন টস থেকে শুরু করে প্রেস কনফারেন্স— সব কিছুর জন্যই সূর্য-ঈশানরা তৈরি থাকবেন। যতক্ষণ না ম্যাচ রেফারি আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ বাতিল করছেন, ততক্ষণ ভারত মাঠ ছাড়বে না। পাকিস্তান না এলে নিয়ম অনুযায়ী ভারত পূর্ণ পয়েন্ট পেয়ে যাবে।
বিপাকে আইসিসি: ভারত-পাক ম্যাচ মানেই বিজ্ঞাপনী আয়ের খনি। এই ম্যাচ না হলে সম্প্রচারকারী সংস্থা থেকে শুরু করে স্পনসরদের কয়েকশো কোটি টাকার লোকসান হবে। এছাড়া বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করায় টুর্নামেন্টের জৌলুস অনেকটাই ফিকে হয়ে গিয়েছে। এখন পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত মাঠে না নামে, তবে ২০২৬-এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ইভেন্ট হিসেবে চিহ্নিত হবে। নেটিজেনদের প্রশ্ন— গ্রপ লিগে না হয় পয়েন্ট দিয়ে পার পাওয়া যাবে, কিন্তু সেমিফাইনাল বা ফাইনালে দেখা হলে পাকিস্তান কি তবে ভারতকে ‘ওয়াকওভার’ দিয়ে দেবে?