দিল্লির রাজপথে মমতা, সংসদে কল্য়াণ! ‘বঙ্গভবন’ ইস্যুতে মোদী-শাহকে তৃণমূলের দ্বিমুখী আক্রমণ

২০২৬-এর বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ যখন তপ্ত, ঠিক সেই সময় রাজধানীর বুকে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। একদিকে দিল্লির বঙ্গভবনে পুলিশের ‘তল্লাশি’র প্রতিবাদে রাজপথে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে সংসদের ভেতরে অমিত শাহের সামনেই গর্জে উঠলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকাল থেকেই কার্যত ‘ঘরে-বাইরে’ তৃণমূলের শাহী-আক্রমণে উত্তাল হয়ে উঠল জাতীয় রাজধানী।
রাজপথে মমতার হুঁশিয়ারি: সোমবার সকালে দিল্লি পুলিশ অতর্কিতে বঙ্গভবন ঘিরে ফেলতেই মেজাজ হারান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে তিনি সরাসরি পৌঁছে যান সেখানে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, “সকাল থেকে বঙ্গভবন পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ঘরে ঘরে তল্লাশি চলছে। এটা আমাদের জায়গা, এখানে এমন করার অধিকার ওদের নেই।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, “আমাদের মাসল পাওয়ার (পেশিশক্তি) দেখবেন না। আপনি ব্ল্যাক কার্পেট পাতলে আমরাও ব্ল্যাক রেজাল্ট দেখিয়ে দেব।”
সংসদে কল্য়াণ-গর্জন: মমতা যখন বাইরে সুর চড়াচ্ছেন, তখন লোকসভার ভেতরেও পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। বাজেট অধিবেশন চলাকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতেই আচমকা ওয়েলে নেমে পড়েন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বঙ্গভবনের ঘটনার প্রতিবাদে তিনি ধিক্কার স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে স্পিকার ওম বিড়লা তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কল্যাণের এই আচমকা আক্রমণে থমকে যায় অধিবেশন, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বক্তৃতার আগেও কয়েক মিনিট চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
নেপথ্যে কী কারণ? মূলত ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত এখন তুঙ্গে। এই প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া একাধিক পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি গিয়েছেন মমতা। তাঁদেরই বঙ্গভবনে রাখা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, সেই সাধারণ মানুষদের হেনস্থা করতেই দিল্লি পুলিশ এই অতি-সক্রিয়তা দেখাচ্ছে। বঙ্গভবন থেকে সংসদের ওয়েল— এই দ্বিমুখী আক্রমণে আজ দিনভর দিল্লি কাঁপাল তৃণমূল।