তেলের খরচ কমবে রকেটের গতিতে! গাড়ির মাইলেজ বাড়ানোর এই ৯টি গোপন টিপস জানা আছে তো?

পেট্রোল ও ডিজেলের আকাশছোঁয়া দামের বাজারে গাড়ির মাইলেজ এখন সাধারণ মানুষের প্রধান দুশ্চিন্তা। অনেকেই মাইলেজ বাড়াতে সার্ভিসিং সেন্টারে ছোটেন, কিন্তু আসল সমাধান লুকিয়ে থাকে চালকের ড্রাইভিং অভ্যাস এবং ছোটখাটো কিছু টেকনিক্যাল বিষয়ে। সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চললেই আপনি আপনার গাড়ির জ্বালানি খরচ কমিয়ে আনতে পারেন। জেনে নিন মাইলেজ বাড়ানোর আসল ৯টি রহস্য:
১. দুপুরে পেট্রোল ভরায় বড় লোকসান!
প্রখর রোদে পেট্রোল তাপে প্রসারিত হয়। এর ফলে লিটার প্রতি আপনি যতটা তরল পাওয়ার কথা, তার চেয়ে বাষ্প বেশি পান। তাই সবচেয়ে ভালো হয় যদি সকাল ৭টার আগে বা রাত ১০টার পর জ্বালানি ভরেন।
২. স্পার্ক প্লাগের গ্যাপ পরীক্ষা করুন
শুধু স্পার্ক প্লাগ বদলালেই হবে না, সেটির ‘গ্যাপ’ বা ফাঁক ঠিক থাকা জরুরি। গ্যাপ সঠিক না থাকলে জ্বালানি পুরোপুরি জ্বলে না, ফলে মাইলেজ কমে যায়।
৩. ফুয়েল ফিল্টার এড়িয়ে যাবেন না
অধিকাংশ মানুষ কেবল এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করেন। কিন্তু নোংরা ফুয়েল ফিল্টার জ্বালানি পাম্পের ওপর চাপ বাড়ায়, যা তেল বেশি খাওয়ার অন্যতম কারণ।
৪. হাই-স্পিডে জানলা বন্ধ রাখুন
গাড়ি যখন ৮০ কিমি-র বেশি গতিতে চলে, তখন জানলা খোলা থাকলে বাতাসের বাধায় ইঞ্জিনের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে তেল বেশি খরচ হয়। এই সময় জানলা বন্ধ করে এসি চালানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
৫. সঠিক সময়ে গিয়ার বদল
লো-গিয়ারে গাড়ি টানলে বা খুব কম স্পিডে হাই-গিয়ার দিলে ইঞ্জিনের ক্ষতি হয়। ২০০০ RPM-এর আশেপাশে গিয়ার বদলানো মাইলেজের জন্য আদর্শ।
৬. জ্যাম ব্রেক চেক করুন
ঢালু রাস্তায় গাড়ি নিউট্রাল করার পর যদি নিজে থেকে না গড়ায়, তবে বুঝবেন ব্রেক ক্যালিপার জ্যাম হয়ে আছে। এটি মাইলেজ ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয়।
৭. গাড়িকে হালকা রাখুন
গাড়ির ডিকিতে ফালতু মালপত্র বোঝাই করে রাখবেন না। প্রতি ৫০ কেজি বাড়তি ওজনে মাইলেজ প্রায় ২ শতাংশ কমে যায়।
৮. ক্লাচে পা দিয়ে গাড়ি চালাবেন না
অনেকেরই অভ্যাস থাকে ক্লাচ প্যাডলে পা দিয়ে রাখা। একে ‘ক্লাচ রাইডিং’ বলে। এতে ইঞ্জিনের পাওয়ার লস হয় এবং জ্বালানি বেশি অপচয় হয়।
৯. ট্রাফিক সিগন্যালে ইঞ্জিন বন্ধ রাখুন
যদি ট্রাফিক সিগন্যাল ৩০ সেকেন্ডের বেশি হয়, তবে ইঞ্জিন বন্ধ করে দিন। আধুনিক গাড়ি স্টার্ট দিতে যে তেল খরচ হয়, তার চেয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে তেল বেশি পোড়ে।