২৩ বছরেও গ্ল্যামার জগত থেকে শতহস্ত দূরে! কেন ১৫ বছর বয়সেই মা-বাবাকে ছেড়েছিলেন অক্ষয়-পুত্র আরভ?

বলিপাড়ায় এখন ‘স্টার কিড’দের রমরমা। শাহরুখ-কন্যা সুহানা থেকে বনি-কন্যা খুশি— লাইমলাইটে আসার জন্য যখন সবাই মুখিয়ে, তখন সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটছেন অক্ষয় কুমার ও টুইঙ্কল খান্নার পুত্র আরভ ভাতিয়া। ২৩ বছরে পা দিয়েও নিজেকে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ থেকে দূরে রেখেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাবার মতো রূপালি পর্দায় অভিনয়ের কোনো পরিকল্পনাই তাঁর নেই।

কেন ১৫ বছর বয়সেই ঘর ছেড়েছিলেন আরভ? ২০০২ সালে মুম্বইয়ে জন্ম হলেও আরভের বেড়ে ওঠাটা অনেকটা ছকভাঙা। পড়াশোনার প্রতি বরাবরের ঝোঁক তাঁর। উচ্চশিক্ষার জন্য মাত্র ১৫ বছর বয়সেই মায়ানগরী মুম্বই ছেড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সিঙ্গাপুরে। সেখান থেকে স্নাতক হওয়ার পর বর্তমানে লন্ডনে ফ্যাশন নিয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন আরভ। অক্ষয় কুমারের মতোই মার্শাল আর্টে দড় আরভ মাত্র চার বছর বয়সেই হাতেখড়ি নিয়েছিলেন। ক্যারাটেতে ব্ল্যাক বেল্ট অর্জনের পাশাপাশি জুডোতে জাতীয় স্তরে পদকও জিতেছেন তিনি। তবে এত প্রতিভা থাকলেও তাঁর ধ্যান-জ্ঞান এখন কেবল ‘ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি’।

মা টুইঙ্কলের দুশ্চিন্তার কারণ কী? ছেলে গ্ল্যামার জগত থেকে দূরে থাকলেও মা হিসেবে চিন্তার অন্ত নেই টুইঙ্কল খান্নার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে টুইঙ্কল বলেন, আরভ বড্ড বেশি শান্ত এবং নরম মনের মানুষ। তাঁর এই অমায়িক ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে তাঁকে ঠকাতে না পারে, সেই ভয় সবসময় তাড়িয়ে বেড়ায় তারকাদম্পতিকে।

ছেলের প্রেমজীবন থেকে শুরু করে বন্ধুবান্ধব— সব বিষয় নিয়েই সতর্ক মা টুইঙ্কল। তিনি জানান, “ছোটবেলা থেকেই ও খুব সাদাসিধে। লোকে ওর এই ভালোমানুষির সুযোগ নিয়ে ওর ক্ষতি করতে পারে, এই দুশ্চিন্তা আমাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করে। আমি ওকে বারবার বলি নিজের চারপাশে একটা সীমানা টেনে রাখতে।” বলিউডের তথাকথিত ‘পার্টি কালচার’ থেকে দূরে থাকা আরভ ফ্যাশন দুনিয়ায় কতটা সফল হন, এখন সেটাই দেখার। তবে গ্ল্যামার জগতের হাতছানি উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছেকে গুরুত্ব দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানাচ্ছে নেটপাড়া।