কমিশনের কাজে ‘অদৃশ্য’ নজরদারি! ভোটার দিবসে বিস্ফোরক অভিষেক, বুথে বুথে তৈরি হচ্ছে ‘ভোটরক্ষা কমিটি’

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা কি তবে বেজে গেল? জাতীয় ভোটার দিবসে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া মেজাজ অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। রবিবার রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে দুটি করে মিছিলের নির্দেশের পাশাপাশি দলের মেগা ভার্চুয়াল মিটিং থেকে একগুচ্ছ বিস্ফোরক দাওয়াই দিলেন তিনি। তাঁর সাফ বার্তা, এবার নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপে থাকবে তৃণমূলের ‘অদৃশ্য’ নজরদারি।

তৈরি হচ্ছে ‘ভোটরক্ষা কমিটি’: সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে বুথ স্তরে ‘ভোটরক্ষা কমিটি’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় কোনোভাবে যাতে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ না যায় এবং বিরোধীরা যাতে কোনো কারচুপি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই কমিটি। অভিষেক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কমিশনের কাজের ওপর কড়া নজর রাখতে হবে এবং কোনো অসঙ্গতি দেখলেই আইনি পথে লড়াই শুরু হবে।

২২ দিনের যুদ্ধঘোষণা: তৃণমূলের অন্দরমহল জানাচ্ছে, দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে অভিষেক অত্যন্ত কড়া ভাষায় কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “এখন কোনো আত্মতুষ্টির সময় নয়, এটা যুদ্ধের সময়।” আগামী ২২ দিনকে ‘মরণ-বাঁচন’ লড়াই হিসেবে দেখছেন তিনি। তাঁর নির্দেশ, আগামী ২২ দিন বাড়ির আরাম ছেড়ে প্রতিটি নেতা ও কর্মীকে বুথে বুথে ‘মাটি কামড়ে’ পড়ে থাকতে হবে। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের নাম তালিকায় আছে কি না, তা যাচাই করার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সাংসদ ও বিধায়কদের কড়া হুঁশিয়ারি: দলের অনেক ‘ওয়ার রুম’ ঠিকঠাক কাজ করছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সিরিয়াসলি কাজ না করলে দল পাশে দাঁড়াবে না।” সাংসদদের উদ্দেশে তাঁর নির্দেশ, বাজেট সেশন ছাড়া বাকি সময়টা যেন তাঁরা নিজেদের লোকসভা এলাকায় কাটান। “ঘুম থেকে জেগে উঠুন,”—এই ভাষাতেই দলের ঢিলেঢালা অংশকে আক্রমণ করেছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। সব মিলিয়ে, ভোটার দিবসকে হাতিয়ার করে ২০২৬-এর লক্ষ্যে চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।