‘হিন্দ-দি-চাদর’-এ ভক্তি ও সেবার মহাকুম্ভ! একসঙ্গে প্রসাদ খেলেন লক্ষ লক্ষ মানুষ

মহারাষ্ট্রের নান্দেদে আধ্যাত্মিকতা ও মানবতার এক অনন্য মিলনমেলা চাক্ষুষ করল দেশবাসী। শিখ ধর্মের নবম গুরু, ‘হিন্দ-দি-চাদর’ শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর সাহিবজির ৩৫০তম শহিদি সমাগম বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে। আর এই মহতী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ‘লঙ্গর সেবা’য় সৃষ্টি হল এক অনন্য ইতিহাস। যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা ভাষার কোনো প্রাচীর নেই; আছে শুধু সেবার আনন্দ।

বিশালাকার লঙ্গর ও সাম্যের ছবি: শিখ ধর্মের মূল ভিত্তিই হলো সেবা এবং সাম্য। সেই আদর্শকেই আরও বৃহৎ পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে নান্দেদে। মূল মণ্ডপের কাছে মোট ৮টি বিশাল মণ্ডপ তৈরি করে চালানো হচ্ছে এই লঙ্গর সেবা। এখানে ধনী-দরিদ্র, উচ্চ-নীচ বা নারী-পুরুষের কোনো ভেদাভেদ নেই। একই সারিতে মাটিতে বসে লক্ষ লক্ষ ভক্ত, সাধু-সন্ত এবং সাধারণ মানুষ একত্রে আহার গ্রহণ করছেন। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে সামাজিক সাম্যের এমন বলিষ্ঠ ছবি কার্যত বিরল।

সেবাই যেখানে সাধনা: এই বিশাল লঙ্গর পরিচালনার পেছনে রয়েছে কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবকের নিরলস পরিশ্রম। ভোররাত থেকে শুরু হচ্ছে কাজ—সবজি কাটা, রুটি বেলা, বিশাল কড়াইয়ে রান্না থেকে শুরু করে সাফ-সুতরো রাখা। শিখ সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের যুবক-যুবতী ও মহিলারাও এই ‘সেবা’য় হাত বাড়িয়েছেন। তাঁদের কাছে ‘সেবাই পরম ধর্ম’, আর এই মন্ত্রেই তাঁরা দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন।

প্রশাসনের তৎপরতা: অনুষ্ঠানটি সফল করতে মহারাষ্ট্র সরকার, স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও পুরসভা সবরকম সহায়তা দিচ্ছে। বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং পানীয় জলের ওপর। ভক্তদের শারীরিক অসুস্থতার কথা মাথায় রেখে বসানো হয়েছে বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন্দ্রও। সব মিলিয়ে, ‘হিন্দ-দি-চাদর’ অনুষ্ঠানটি কেবল একটি ধর্মীয় সমাবেশ নয়, বরং বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার এক উজ্জ্বল পিঠস্থানে পরিণত হয়েছে।