কুমারগঞ্জে রক্তপাত! কমিশনের অফিসারের ওপর অতর্কিত হামলা, রণক্ষেত্র দক্ষিণ দিনাজপুর

রাজ্যে ফের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে এবার খোদ নির্বাচন কমিশনের মাইক্রো-অবজার্ভারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠল। শনিবার রাতে কুমারগঞ্জ ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (BDO) অফিসের কাছে আইসিডিএস ভবনে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন এই নক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। আক্রান্ত সরকারি আধিকারিকের নাম দিব্যেন্দু গড়াই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল? সূত্রের খবর, শনিবার সারাদিন শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী বা এসআইআর-এর কাজ চলছিল। কিন্তু সন্ধ্যা নামতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ, একদল দুষ্কৃতী আচমকা ক্যাম্পে ঢুকে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং সেখানে উপস্থিত মাইক্রো-অবজার্ভার দিব্যেন্দু গড়াইয়ের ওপর চড়াও হয়। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে বিডিও অফিসের গেট বন্ধ করে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সুকান্ত মজুমদারের তোপ: এই ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় গর্জে উঠেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। তিনি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। সুকান্তবাবু বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস পরাজয়ের ভয়ে কাঁপছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধা দিতেই সরকারি আধিকারিকদের ওপর এই হামলা চালানো হচ্ছে। রাজ্য পুলিশের উপস্থিতিতে একজন মাইক্রো-অবজার্ভারের ওপর এই আক্রমণ প্রমাণ করে বাংলায় আইনের শাসন নেই।” তিনি অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের ভূমিকা: যদিও এই বিষয়ে আক্রান্ত মাইক্রো-অবজার্ভার এখনো মুখ খোলেননি, তবে জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল জানিয়েছেন যে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এই ঘটনার জেরে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। কমিশনের আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল রবিবারের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনায়।