সমুদ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! মাদক পাচারকারীদের জাহাজে মার্কিন সেনার মিসাইল হানা, মৃত ২

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে ফের বড়সড় অভিযান চালাল মার্কিন সামরিক বাহিনী। শুক্রবার মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক পাচারের অভিযোগে একটি সন্দেহভাজন জাহাজে সরাসরি হামলা চালিয়েছে তারা। চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তারের পর এটিই মার্কিন সেনার প্রথম বড় মাদকবিরোধী সামরিক পদক্ষেপ।
অপারেশন ও প্রাণহানি: সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন সেনার শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মাঝসমুদ্রে একটি জাহাজে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটছে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা আগুনের গোলায় পরিণত হচ্ছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, এই হামলায় জাহাজে থাকা দুই পাচারকারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে একজন এখনও বেঁচে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ ওই ব্যক্তির সন্ধানে কোস্টগার্ড তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ট্রাম্পের রণকৌশল: উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ এনে নিউইয়র্কে বিচারের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পর থেকেই ভেনেজুয়েলা সংশ্লিষ্ট তেল ট্যাঙ্কার এবং সন্দেহভাজন জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
পরিসংখ্যান ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: সেপ্টেম্বর মাস থেকে দক্ষিণ আমেরিকার জলসীমায় এটি ৩৬ নম্বর হামলা। মার্কিন সামরিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই সব অভিযানে এ পর্যন্ত ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার সিংহভাগই ঘটেছে ক্যারিবিয়ান সাগরে। গত ডিসেম্বরের শেষেও পাঁচ দিনে আটজনকে খতম করেছিল মার্কিন সেনা।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, “আমরা জলপথে আসা প্রায় ১০০ শতাংশ মাদক পাচার বন্ধ করে দিয়েছি।” ট্রাম্পের মতে, ক্যারিবিয়ান এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের এই জলপথগুলি মাদকের স্বর্গরাজ্য ছিল, যা এখন মার্কিন সেনার কড়া পাহারায় কার্যত রুদ্ধ।