সাবরিমালার পবিত্র সোনা লুট! ৩ রাজ্যে ইডির ম্যারাথন তল্লাশিতে ফাঁস হলো ভয়ংকর চক্র

কেরলের পবিত্র তীর্থক্ষেত্র সাবরিমালা শ্রী আয়াপ্পা মন্দিরের পবিত্র সোনা গায়েব হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মন্দিরের সোনা চুরির এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে এবার ময়দানে নেমেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মানি লন্ডারিং বা অর্থ তছরুপের অভিযোগে কেরল, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ু—এই তিন রাজ্যে একযোগে ২১টি জায়গায় শুরু হয়েছে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান।
ইডির নজরে রয়েছেন ট্রাভাঙ্কোর দেবস্বম বোর্ডের প্রাক্তন সভাপতি এ পদ্মকুমার এবং মূল অভিযুক্ত উন্নিকৃষ্ণন পট্টি। বেঙ্গালুরুতে উন্নিকৃষ্ণনের একাধিক বাড়ি ও অফিস ছাড়াও একাধিক গয়নার দোকান, সোনা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের কার্যালয়ে হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। গত ৯ জানুয়ারি কেরল পুলিশের দায়ের করা এফআইআর-এর সূত্র ধরেই ইডি এই তদন্তে নেমেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। অভিযোগ, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে মন্দিরের গর্ভগৃহের দরজার ফ্রেম এবং বিগ্রহের সোনায় মোড়া তামার ফলক থেকে সোনা খুলে নেওয়া হয়েছে। সরকারি নথিতে সেগুলোকে কেবল ‘তামার ফলক’ হিসেবে উল্লেখ করে পাচার করা হতো। পরে চেন্নাই ও কর্ণাটকের বিভিন্ন কারখানায় রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সোনা আলাদা করে বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হতো। এই বিপুল অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সাদা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ইডির।
মন্দিরের দান ও পুজোর তহবিলে অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে ইডি। ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে জড়িত এই বিশাল কেলেঙ্কারিতে প্রশাসনিক দুর্নীতি ও বড়সড় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মিলছে বলে ধারণা আধিকারিকদের। এই ঘটনায় কেরল জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।