সুবর্ণজয়ন্তীতে সত্যজিতের ‘জন অরণ্য’, কর্পোরেট যুগে আজও কি প্রাসঙ্গিক সোমনাথের নৈতিক লড়াই?

১৯৭৬ সাল—একদিকে দেশে জারি হওয়া জরুরি অবস্থার শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ, অন্যদিকে ওপার বাংলায় নকশাল আন্দোলনের ধিকিধিকি আগুন। ঠিক এই অস্থির যুগসন্ধিক্ষণেই মুক্তি পেয়েছিল সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী ছবি ‘জন অরণ্য’। মণিশংকর মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবি কেবল চাকরির জন্য এক যুবকের সংগ্রামের কাহিনি ছিল না, তা ছিল নৈতিকতা বিসর্জনের এক নির্মম সামাজিক দলিল। এ বছর ছবিটি তার সুবর্ণজয়ন্তীতে পা দিল। প্রদীপ মুখোপাধ্যায়ের সংযত অভিনয় আর উৎপল দত্তর দাপটে সোমনাথের অন্ধকার জগতে প্রবেশের সেই কাহিনি আজকের স্টার্টআপ বা কর্পোরেট সংস্কৃতিতেও সমভাবে প্রাসঙ্গিক।
এই বছরটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে অত্যন্ত উজ্জ্বল। কারণ, এই বছরেই মুক্তি পায় মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’, যার হাত ধরে ভারতীয় সিনেমায় অভিষেক ঘটে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ মিঠুন চক্রবর্তীর। অন্যদিকে, মহানায়িকা সুচিত্রা সেন তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ অভিনয়টি করেছিলেন এই বছরেরই ছবি শরৎচন্দ্রের ‘দত্তা’-তে। অজয় করের পরিচালনায় সেই ছবি নারীর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল।
শুধু তাই নয়, ১৯৭৬ সালে উত্তমকুমারের ‘হোটেল স্নো ফক্স’, তপন সিংহের কালজয়ী গীতিধর্মী ছবি ‘হারমোনিয়াম’ কিংবা কিশোর অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়ের সুপারহিট ‘হংসরাজ’—বাঙালির মন জয় করেছিল প্রতিটি ছবিই। ময়দানী আবেগকে সেলুলয়েডে বন্দি করেছিল ‘মোহনবাগানের মেয়ে’। এই সব ছবির মাধ্যমেই বাঙালির মধ্যবিত্ত হতাশা, প্রতিবাদ এবং মুক্তির সুর ধ্বনিত হয়েছিল সেই অস্থির সময়ে। চাকরির বাজার হয়তো বদলেছে, কিন্তু জন অরণ্যের সেই নৈতিক সংকট আজও অমীমাংসিত।