দিল্লির তুর্কমান গেটে ধুন্ধুমার! বুলডোজার চলতেই রণক্ষেত্র এলাকা, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথরবৃষ্টি

জাতীয় রাজধানীর ঐতিহাসিক তুর্কমান গেট এলাকা বর্তমানে এক উত্তপ্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ফয়েজ-ই-ইলাহি মসজিদের কাছে সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দিল্লি হাইকোর্টের কড়া নির্দেশের পর, সম্প্রতি দিল্লি পৌর কর্পোরেশন (MCD) এবং পুলিশের একটি বিশাল দল ওই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানে নামে। কিন্তু অভিযান শুরু হতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও কাঁচের বোতল ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালত তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।

দিল্লি পৌর কর্পোরেশনের ডেপুটি কমিশনার বিবেক কুমার জানিয়েছেন, প্রায় ৩৬,০০০ বর্গফুট জমি অবৈধ দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযানে একটি বেআইনি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, একটি ব্যাঙ্কোয়েট হল এবং দুটি সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনায় দাঙ্গা ছড়ানো ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

ফিরে দেখা ইতিহাস: কে ছিলেন শাহ তুর্কমান? এই অশান্তির আবহে উঠে আসছে তুর্কমান গেটের ঐতিহাসিক গুরুত্ব। মুঘল সম্রাট শাহজাহান যখন ১৬৩৮ সালে তাঁর রাজধানী আগ্রা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করেন, তখন শাহজাহানাবাদ শহরকে রক্ষা করার জন্য ১৪টি তোরণ বা গেট নির্মাণ করেছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো তুর্কমান গেট। এই গেটটির নামকরণ করা হয়েছে বিখ্যাত সুফি সাধক হযরত শাহ তুর্কমান বায়াবানীর নামে।

কথিত আছে, শাহ তুর্কমান ছিলেন দিল্লিতে ইসলাম প্রচার করতে আসা প্রাথমিক যুগের সাধকদের একজন। তিনি যখন এই অঞ্চলে বসবাস শুরু করেন, তখন এটি ছিল ঘন অরণ্য ও পাহাড় ঘেরা নির্জন এলাকা। ‘বায়াবানি’ শব্দের অর্থ হলো বনে বসবাসকারী। ১২৫০ খ্রিস্টাব্দের আগে থেকেই তাঁর সমাধি এখানে বিদ্যমান ছিল। সম্রাট শাহজাহান এই আধ্যাত্মিক সাধকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই নিকটবর্তী গেটটির নাম রাখেন ‘তুর্কমান দরজা’। বর্তমানে তাঁর সমাধিটি একটি সুন্দর কাঁচের ভবনে সংরক্ষিত এবং প্রতি বছর এখানে মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

সঞ্জয় গান্ধীর আমলের স্মৃতি ফিরল তুর্কমান গেটে তুর্কমান গেটে বুলডোজার চালানোর ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৭৬ সালে জরুরি অবস্থার সময় সঞ্জয় গান্ধীর নির্দেশে এই এলাকায় বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। তৎকালীন সরকারের লক্ষ্য ছিল তুর্কমান গেট থেকে জামা মসজিদ পর্যন্ত এলাকাটি পরিষ্কার রাখা। সেই সময় ব্যাপক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল এবং বহু মানুষকে মঙ্গোলপুরীর মতো এলাকায় পুনর্বাসন নিতে বাধ্য করা হয়েছিল। কয়েক দশক পর আবারও আদালতের নির্দেশে সেই একই এলাকায় উচ্ছেদ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।