নেড়ি থেকে ঈগল—এবার প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে সেনার ‘তুরুপের তাস’! কাঁপবে দিল্লির কর্তব্যপথ

চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে গোটা দেশ। এই প্রথমবার দিল্লির কর্তব্যপথে মার্চ পাস্টে অংশ নিতে চলেছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘চতুষ্পদ’ বাহিনী ও বিশেষ পাখি ব্রিগেড। উট, ঘোড়া থেকে শুরু করে শিকারি পাখি ও দেশি কুকুর—সেনার ‘রিমাউন্ট অ্যান্ড ভেটেরিনারি কোর’ (RVC)-এর এই বিশেষ সদস্যরা দেখাবে কীভাবে দুর্গম সীমান্তে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তারা দেশকে রক্ষা করে।
কুচকাওয়াজের শুরুতে আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকবে লাদাখের দুই কুঁজওয়ালা ‘ব্যাকট্রিয়ান উট’, যারা ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ২৫০ কেজি ওজন নিয়ে সেনার রসদ জোগায়। সঙ্গে থাকবে বিরল প্রজাতির ‘জান্সকার পনি’ বা লাদাখি টাট্টু ঘোড়া, যারা মাইনাস ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রাতেও সেনাকে সিয়াচেনের দুর্গম পথে পিঠে বয়ে নিয়ে চলে। নজরদারির শক্তি বাড়াতে প্যারেডে থাকছে সেনার বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চারটি ঈগল। মানুষের চেয়ে ৮ গুণ বেশি দৃষ্টিশক্তির অধিকারী এই শিকারি পাখিরা শত্রু ড্রোন ধ্বংস করতে ও ৩৪০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে নজরদারিতে ওস্তাদ।
তবে এবারের প্যারেডে সবচেয়ে বড় চমক ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর প্রতীক হিসেবে দশটি দেশি প্রজাতির কুকুর। বাঙালি যাকে সচরাচর ‘নেড়ি’ বলে অবজ্ঞা করে, সেই মুধল হাউন্ড, রামপুর হাউন্ড বা রাজাপালায়মরাই এখন সেনার ‘সাইলেন্ট ওয়ারিয়র’। বিস্ফোরক খোঁজা থেকে শুরু করে জঙ্গি দমন—সবক্ষেত্রেই বিদেশি ব্রিডকে টেক্কা দিচ্ছে এই দেশি কুকুররা। অত্যাধুনিক অস্ত্রের ভিড়ে এই চারপেয়ে যোদ্ধাদের কুচকাওয়াজ এটাই প্রমাণ করবে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় তারা সেনার অবিচ্ছেদ্য অংশ।