জ্বলছে ইরান! খামেনেই শাসনের পতন চেয়ে তেহরানের রাস্তায় বিদ্রোহের আগুন

বিপর্যস্ত অর্থনীতি এবং মাত্রাতিরিক্ত দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ফের গণবিদ্রোহে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর ইসলামি শাসনের ভিত কাঁপিয়ে তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির ডাকে সাড়া দিয়ে রাত ৮টা বাজতেই রাজপথে নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ। ‘স্বৈরশাসকের পতন হোক’ এবং ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র নিপাত যাক’—এই স্লোগানে কেঁপে ওঠে ইরানের আকাশ।

বিক্ষোভ রুখতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার চরম পথ বেছে নিয়েছে। গোটা দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা এবং আন্তর্জাতিক ল্যান্ডলাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলির দাবি, বিক্ষোভে এপর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২,২৭০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে শাহের সমর্থনে স্লোগান দিতে দেখা যাচ্ছে বিক্ষোভকারীদের, যা ইরানের ভঙ্গুর শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে মানুষের চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

যুবরাজ রেজা পাহলভি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে, বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন, যাতে ইরানিদের কণ্ঠস্বর বিশ্ব শুনতে পায়। ইসরায়েলের প্রতি তাঁর সমর্থন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, রাজতন্ত্রে ফেরার এই প্রবল আকাঙ্ক্ষা খামেনেই প্রশাসনকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।