স্ত্রীর প্রেমিকের সাথে নিজের হাতে বিয়ে দিলেন স্বামী! বিহারের এই ‘ত্যাগ’ দেখে হতবাক নেটপাড়া!

প্রেম, পরকীয়া আর আত্মত্যাগের এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল বিহারের বৈশালী জেলা। ঝান্ডাহা থানা এলাকার বাসিন্দা কুন্দন কুমার যা করলেন, তা সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। নিজের স্ত্রী রানী কুমারী যখন তাঁরই তুতো ভাইয়ের প্রেমে মগ্ন হয়ে ঘর ছাড়ার জেদ ধরেন, তখন বিবাদ বা ঝগড়া নয়, বরং হাসিমুখে স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কুন্দন।

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম থেকে পরকীয়ার শুরু কুন্দন ও রানীর বিয়ে হয়েছিল ২০১১ সালে। তাঁদের তিন সন্তানও রয়েছে। কুন্দন পেশায় একটি গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের মালিক। কিন্তু গত ৫ বছর ধরে রানী তাঁর তুতো ভাই গোবিন্দ কুমারের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে তাঁদের প্রেম গভীর হয়। কুন্দন যখন কাজের সূত্রে জম্মুতে থাকতেন, তখনই রানী ও গোবিন্দের সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়। কুন্দন বারবার রানীর মন ঘোরানোর চেষ্টা করলেও রানী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমি আর তোমার সাথে থাকব না, গোবিন্দই আমার সব।”

আদালতে সাক্ষী থাকলেন স্বামীই! স্ত্রীর অনড় মনোভাব দেখে কুন্দন কুমার সিদ্ধান্ত নেন যে, জোর করে কাউকে বেঁধে রাখা সম্ভব নয়। রানী যদি অন্য কারও সাথে সুখে থাকেন, তবে তিনি তাতে বাধা দেবেন না। এরপর রানী ও গোবিন্দ আদালতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিয়েতে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন স্বয়ং কুন্দন কুমার! তিনি নিজেই তাঁর স্ত্রীকে প্রাক্তন করে প্রেমিকের হাতে তুলে দেন এবং সম্মানজনক বিদায় জানান।

সন্তানদের দায়িত্ব নিলেন বাবা এই বিচিত্র প্রেমকাহিনীর মাঝে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হলো তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ। রানী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি তাঁর নতুন জীবনে সন্তানদের নিয়ে যেতে চান না। কুন্দন কুমার বড় মনের পরিচয় দিয়ে তিন সন্তানের দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন। রানী এখন গোবিন্দের সাথে নতুন সংসার শুরু করেছেন। এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে; কেউ কুন্দনের উদারতাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন, আবার কেউ স্ত্রীর এমন আচরণে সমালোচনা করছেন।