ভয়াবহ প্র্যাঙ্ক! নিছক মজার ছলে সহপাঠীকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, থমথমে হিন্দু কলেজ চত্বর!

উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ জেলায় এক শিউরে ওঠার মতো ঘটনা সামনে এসেছে। নিছক রসিকতা বা ‘প্র্যাঙ্ক’ করার নামে এক সহপাঠীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ ছাত্রের বিরুদ্ধে। শহরের নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিন্দু কলেজের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরো রাজ্যে। আক্রান্ত ছাত্রের শরীরের প্রায় ৮ শতাংশ অংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ: সিঁড়ি দিয়ে নামতেই হামলা শহরের সিটি এসপি কুমার রণবীর সিং জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা নাগাদ হিন্দু কলেজের বি.কম তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্র যখন কলেজের সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন, ঠিক তখনই অভিযুক্ত ছাত্র আরুষ তাঁর ওপর দাহ্য পদার্থ (সম্ভবত পেট্রোল) ছুঁড়ে মারে। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাইটার দিয়ে ওই ছাত্রের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় সে। মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে আক্রান্ত ছাত্রের পা এবং উরুর অংশ। আর্তনাদে ফেটে পড়েন উপস্থিত অন্য পড়ুয়ারা। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
‘উত্তেজনা সৃষ্টি করতেই এমন কাজ’— অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি সদর কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত আরুষকে গ্রেফতার করেছে। জেরার মুখে আরুষ যা জানিয়েছে, তা শুনে পুলিশের চোখও কপালে উঠেছে। সে দাবি করেছে, সে কোনো শত্রুতার কারণে নয়, বরং স্রেফ ‘মজা’ করতে এবং সহপাঠীদের মধ্যে একটু উত্তেজনা তৈরি করতেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। এই ‘মারাত্মক খেলা’ যে একজন ছাত্রের জীবন কেড়ে নিতে পারত, সেদিকে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না।
পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ধারায় মামলা দায়ের করেছে। সিটি এসপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রসিকতার দোহাই দিয়ে কারোর প্রাণ বিপন্ন করা বরদাস্ত করা হবে না। এই ঘটনায় কলেজ ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্ত চলছে যে এর পেছনে অন্য কোনো পুরনো আক্রোশ ছিল কি না।