ভারতের পরিবেশ রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী মাধব গাডগিলের জীবনাবসান! শোকের ছায়া বিজ্ঞানী মহলে

ভারতের পরিবেশ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ এবং প্রখ্যাত পরিবেশ বিজ্ঞানী মাধব গাডগিল আর নেই। বুধবার রাতে পুনেতে ৮৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। ভারতের পশ্চিমাঘাট (Western Ghats) অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাঁর অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের বিজ্ঞান ও পরিবেশ মহলে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যাকে রেখে গেছেন।

১৯৪২ সালে জন্ম নেওয়া এই অসামান্য মেধাবী বিজ্ঞানী বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। দীর্ঘকাল তিনি বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (IISc)-এ অধ্যাপনা করেছেন। ভারতের আধুনিক পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে এবং সবুজ বিপ্লব পরবর্তী পরিবেশগত সংকটের মোকাবিলায় তাঁর গবেষণা দিশারী হিসেবে কাজ করেছে।

স্মরণীয় গাডগিল কমিশন: ২০১০ সালে ভারত সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রক তাঁর সভাপতিত্বে ‘ওয়েস্টার্ন ঘাটস ইকোলজি এক্সপার্ট প্যানেল’ (WGEEP) গঠন করে, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘গাডগিল কমিশন’ নামে পরিচিত। ২০১১ সালে তিনি যে রিপোর্ট পেশ করেন, তাতে পশ্চিমাঘাট অঞ্চলের খনি শিল্প ও বাঁধ নির্মাণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সুপারিশ করা হয়েছিল। যদিও সেই সময় উন্নয়নের দোহাই দিয়ে একাংশ তাঁর রিপোর্টের সমালোচনা করেছিল, কিন্তু সাম্প্রতিককালের প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলি প্রমাণ করেছে গাডগিলের দূরদর্শিতা কতটা সঠিক ছিল।

জয়রাম রমেশের শ্রদ্ধাঞ্জলি: প্রবীণ এই বিজ্ঞানীর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। তিনি মাধব গাডগিলকে একজন ‘অসাধারণ প্রতিষ্ঠান নির্মাতা ও দেশপ্রেমিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। রমেশ বলেন, “গাডগিল ছিলেন আধুনিক বিজ্ঞান এবং ঐতিহ্যগত লোকজ জ্ঞানের মধ্যে এক জীবন্ত সেতু। সাইলেন্ট ভ্যালি আন্দোলন থেকে শুরু করে বস্তারের অরণ্য রক্ষা— সর্বত্রই তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক।” তাঁর বিনীত স্বভাব এবং অগাধ পাণ্ডিত্য আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।