রুম ভাড়া ৫৫ হাজার, অথচ নেই নিরাপত্তা! পাঁচতারা হোটেলের কাণ্ডে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করল আদালত

বিলাসবহুল হোটেলের বন্ধ দরজার ওপারেও সুরক্ষিত নয় আপনার ব্যক্তিগত জীবন! রাজস্থানের উদয়পুরের বিখ্যাত পাঁচতারা হোটেল ‘লীলা প্যালেস’-এর বিরুদ্ধে এমনই এক গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে গ্রাহক আদালতে। হোটেলের এক কর্মীর কাণ্ড এবং কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জেরে এবার ১০ লক্ষ টাকারও বেশি জরিমানা দিতে হচ্ছে এই বিশ্বখ্যাত হোটেলকে।

কী ঘটেছিল সেই রাতে? উদয়পুরের এই বিলাসবহুল হোটেলে থাকতে এসেছিলেন এক দম্পতি। অভিযোগ, ওই দম্পতি ঘরে থাকা অবস্থায় হোটেলের হাউসকিপিং কর্মী কোনো আগাম ঘোষণা বা অনুমতি ছাড়াই মাস্টার চাবি ব্যবহার করে সোজা ঘরে ঢুকে পড়েন। কোনো উচ্চমানের হোটেলে এই ধরনের ঘটনা অতিথিদের ব্যক্তিগত পরিসরে বড়সড় হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হয়। অভিযোগকারী মহিলা জানান, এই ঘটনায় তিনি চরম মানসিক অস্বস্তি ও যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন।

অকেজো সিসিটিভি ও হোটেলের অবহেলা: মামলার শুনানিতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। দেখা যায়, যে সময় ওই ঘটনা ঘটেছিল, তখন কক্ষের বাইরের সিসিটিভি ক্যামেরাটি কাজ করছিল না। যেখানে একটি কক্ষের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা চার্জ নেওয়া হয়, সেখানে এই স্তরের নিরাপত্তাহীনতা দেখে আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে। আদালত স্পষ্ট জানায়, কেবলমাত্র মৌখিক আশ্বাস বা ব্যাখ্যা দিয়ে এই অপরাধ ঢাকা দেওয়া সম্ভব নয়।

আদালতের ঐতিহাসিক রায়: ভোক্তা আদালত তার রায়ে জানিয়েছে, হোটেল শিল্পে অতিথিদের গোপনীয়তা এবং সুরক্ষা হলো সবকিছুর ঊর্ধ্বে। আদালত ‘লীলা প্যালেস’ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে যে—

দম্পতির রুম ভাড়া বাবদ ৫৫,০০০ টাকা সুদসহ ফেরত দিতে হবে।

মানসিক যন্ত্রণা ও হয়রানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে মোট ১০.১০ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে।

এই রায় দেশের সমস্ত হোটেল কর্তৃপক্ষের জন্য এক কড়া বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।