ইউনূস সরকারের বড় চাল! সংকট মেটাতে ভারত থেকে ১৮০০০০ টন ডিজেল আমদানির ঘোষণা

ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন থাকলেও, জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের অভ্যন্তরীণ ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানির কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। চালের পর এবার জ্বালানি আমদানির এই পদক্ষেপে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ভারতের সহযোগিতা কতটা অপরিহার্য।

সরকারি অনুমোদন ও সরবরাহ পরিকল্পনা: বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ভারত থেকে ১,৮০,০০০ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছাবে। মূলত কৃষি ও শিল্প খাতে জ্বালানি ঘাটতি দূর করতে এবং বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখতেই এই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

লেনদেন ও আর্থিক হিসাব: আন্তর্জাতিক বাজারের দর অনুযায়ী এই বিশাল চুক্তির আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ১১৯.১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৪৬.২ মিলিয়ন বাংলাদেশি টাকা)। প্রতি ব্যারেল ডিজেলের ভিত্তি মূল্য ৮৩.২২ ডলার নির্ধারিত হলেও বিশ্ববাজারের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত দাম নির্ধারিত হবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) নিজস্ব সম্পদ ও ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে এই অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করবে।

মৈত্রী পাইপলাইনের ভূমিকা: এই ডিজেল আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (NRL) থেকে উৎপাদিত হবে এবং শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন’ এই সরবরাহের মূল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সড়ক বা রেলপথের তুলনায় এই পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ অনেক বেশি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে জ্বালানি পৌঁছানোর ফলে পরিবহন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক শীতলতার মাঝে এই বাণিজ্যিক চুক্তি দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলাতে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে।