ইউপি-তে ভোটার তালিকায় মহাপ্রলয়! ৩ কোটি নাম বাদ পড়তেই ‘গণতন্ত্র হত্যা’র অভিযোগে সরব বিরোধীরা

উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ভূমিকম্প ঘটে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার পর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী, রাজ্য থেকে প্রায় ২.৮৯ কোটি (২৮.৯ মিলিয়ন) ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মোট ভোটার সংখ্যা ১৫৪.৪ মিলিয়ন থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১২৫.৫ মিলিয়নে। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস যেমন ‘গণতন্ত্রের হত্যা’র অভিযোগ তুলেছে, তেমনই খোদ ক্ষমতাসীন বিজেপি শিবিরেও চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিনওয়া জানিয়েছেন, বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) ঘরে ঘরে সমীক্ষার পর ৪৬.২৩ লক্ষ মৃত ভোটার, ২.১৭ কোটি স্থানান্তরিত ভোটার এবং ২৫.৪৭ লক্ষ জাল ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এই ১৮.৭০ শতাংশ নাম বাদ পড়ার নেপথ্যে কোনো বড় কৌশল লুকিয়ে নেই তো?

বিজেপির ঘুম কেড়েছে খসড়া তালিকা: মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্বয়ং স্বীকার করেছেন যে, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে সিংহভাগই (৮৫-৯০%) বিজেপির সমর্থক হতে পারেন। বিশেষ করে শহুরে এবং কুর্মি-ওবিসি ভোটারদের নাম বেশি কাটা গিয়েছে বলে মনে করছে দল। পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন প্রতিটি বুথে গিয়ে বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নাম পুনরায় নথিবদ্ধ করা হয়। ১.৬২ লক্ষ বুথে ফর্ম-৬ বিতরণের কাজও শুরু করেছে বিজেপি কর্মীরা।

বিরোধীদের তোপ: কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অজয় রাই এবং সমাজবাদী পার্টির নেতারা একে ‘বিশাল ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের দাবি, নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও লক্ষ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। ৬ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংশোধনীর সময় দেওয়া হয়েছে এবং ৬ মার্চ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ভোটার তালিকা সংশোধনই এখন উত্তর প্রদেশের রাজনীতির আসল লড়াইয়ের ময়দান হয়ে দাঁড়িয়েছে।