মধুচন্দ্রিমায় হঠাৎ ‘ফ্যামিলি ট্রিপ’! রাগে ডিভোর্সের পথে নববধূ, ঘটনায় হইচই

বিয়ে মানেই নতুন জীবনের শুরু। আর বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমা মানেই স্বামী-স্ত্রীর জন্য একান্ত কিছু মুহূর্ত। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের এক দম্পতির ক্ষেত্রে সেই স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো। হনিমুনে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি এতটাই তিক্ততার জন্ম দিয়েছে যে, এখন ডিভোর্সের পথ বেছে নিতে চলেছেন ওই নববধূ।
কী ঘটেছিল মধুচন্দ্রিমায়?
সূত্র অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের এক দম্পতি বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পরই ওই তরুণী অবাক হয়ে দেখেন, তাদের একান্ত সফরে সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ এবং দেওর! হনিমুনের প্যাকেজটি আচমকাই ‘ফ্যামিলি ট্রিপ’-এ রূপান্তরিত হওয়ায় মেজাজ হারান নববধূ।
কেন এই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত?
পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে তরুণী সোজা দ্বারস্থ হন একটি বিবাহ কাউন্সেলিং সেন্টারের। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, মধুচন্দ্রিমা হলো স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়া তৈরির শ্রেষ্ঠ সময়। সেখানে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি সম্পর্কের গভীরতা নষ্ট করেছে এবং তিনি স্বামীর সঙ্গে একান্ত সময় কাটানোর সুযোগ পাননি। এই অসন্তোষ থেকেই দম্পতির মধ্যে চরম মতভেদ তৈরি হয়।
স্বামীর সাফাই:
অন্যদিকে, এই ঘটনায় কোনো দোষ দেখছেন না ওই তরুণীর স্বামী। তাঁর দাবি, পরিবারের সবাইকে খুশি করার লক্ষ্যেই তিনি বাবা-মা ও ভাইবোনদের সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে ভ্রমণ করাকে তিনি অপরাধ বলে মনে করেন না।
সমাধান মেলেনি কাউন্সেলিংয়েও:
দুই পক্ষই নিজের অবস্থানে অনড়। স্বামীর দাবি তিনি পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন করেছেন, আর স্ত্রীর দাবি ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করেছেন স্বামী। দফায় দফায় কাউন্সেলিং করার পরও এই দম্পতির সম্পর্কের জট কাটেনি। শেষমেশ বিবাহবিচ্ছেদের পথেই হাঁটতে চলেছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে অপরের গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত পরিসর বা ‘প্রাইভেসি’ বজায় রাখা কতটা জরুরি, এই ঘটনা যেন তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ।