কলকাতার হাওয়ায় কত ‘বিষ’? মর্নিংওয়াকও এড়ানোর পরামর্শ দিলেন বিশেষজ্ঞরা

উত্তুরে হাওয়ার পরশ আর হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মাঝেই বড় বিপদ ঘনাচ্ছে তিলোত্তমায়। শহরবাসীর জন্য উদ্বেগের খবর শোনাল হাওয়া অফিস ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। হু হু করে নামছে শহরের বাতাসের মান (AQI)। বুধবার শহরের অধিকাংশ জায়গার বাতাস ‘খারাপ’ থেকে ‘খুব খারাপ’ স্তরে পৌঁছে গিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

কোথায় বিপদ সবথেকে বেশি? কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর থেকেই শহরের সাতটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটিতেই বাতাসের মান ছিল ‘খারাপ’। বিকেল ৫টা বাজতেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বালিগঞ্জ ও যাদবপুর—এই দুই এলাকার বাতাসের মান ‘খুব খারাপ’ (Very Poor) বিভাগে পৌঁছে গিয়েছে। বাকি এলাকাগুলোর অবস্থাও তথৈবচ, একমাত্র বিধাননগরে বাতাসের মান ‘মাঝারি’ রেকর্ড করা হয়েছে।

কেন শীতেই বাড়ছে এই মারণ দূষণ? পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, শীতকালে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কম থাকায় ধূলিকণা ও দূষিত গ্যাসগুলো ওপরের দিকে উঠতে পারে না। ফলে দূষণকারী কণাগুলো মাটির কাছাকাছি আটকে থাকে, যা সরাসরি আমাদের ফুসফুসে প্রবেশ করে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ, বর্জ্য পোড়ানো এবং শীত তাড়াতে জায়গায় জায়গায় জ্বালানো ছোট আগুনের ধোঁয়া।

চিকিৎসকদের কড়া সতর্কতা: এড়িয়ে চলুন শরীরচর্চা! দূষিত বাতাসের প্রকোপ থেকে বাঁচতে চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন:

  • ভোরবেলা বা সন্ধের পর খোলা জায়গায় জগিং, দৌড়ানো বা খেলাধুলা এড়িয়ে চলুন।

  • হাঁপানি, হৃদরোগ বা ফুসফুসের সমস্যা থাকলে বাইরে বেরোনোর সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন।

  • শিশুদের এবং বয়স্কদের এই বিষাক্ত বাতাসে দীর্ঘক্ষণ না রাখাই ভালো।

এক নজরে বায়ু মান সূচক (AQI): বাতাসের গুণমান কেমন, তা বোঝার জন্য নিচের মাপকাঠি ব্যবহার করা হয়:

  • ০ – ৫০: ভালো (Good)

  • ৫১ – ১০০: সন্তোষজনক (Satisfactory)

  • ১০১ – ২০০: মাঝারি (Moderate)

  • ২০১ – ৩০০: খারাপ (Poor)

  • ৩০১ – ৪০০: খুব খারাপ (Very Poor)

  • ৪০১ – ৪৫০: ভয়ংকর (Severe)

শীতের মনোরম পরিবেশ উপভোগ করার পাশাপাশি নিজের শরীরের খেয়াল রাখাও এখন সমান জরুরি। দূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতন না হলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ‘ভয়াবহ’ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।