আমির খানের এই একটি অদ্ভুত অভ্যাসের কথা জানলে চমকে উঠবেন আপনিও! কারণ শুনলে শ্রদ্ধা আরও বেড়ে যাবে

বলিউডে তিনি পরিচিত ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ নামে। তাঁর ছবি নির্বাচন থেকে শুরু করে অভিনয়ের নিখুঁত ধাঁচ—সবকিছুতেই থাকে এক অনন্য ছাপ। তবে রুপোলি পর্দার বাইরেও আমির খানকে নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই ভক্তদের। বিটাউনের আর পাঁচটা তারকার মতো গ্ল্যামার দুনিয়ার পার্টি বা ছবির স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ে তাঁকে খুব একটা দেখা যায় না বললেই চলে। বলিউডের নামী-দামী প্রযোজক-পরিচালকেরা যখন নিজেদের ছবির প্রিমিয়ার বা বিশেষ প্রদর্শনীতে আমিরকে পাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন, তখন কেন তিনি পারতপক্ষে এই ধরনের আয়োজন এড়িয়ে চলেন? এতদিনে সেই বহু প্রতীক্ষিত রহস্যের পর্দা ফাঁস করলেন খোদ আমির খান নিজেই।

বলিউডের গসিপ ও পার্টি কালচার থেকে আমিরের এই দূরত্ব বজায় রাখা নিয়ে অনেক দিন ধরেই চলচ্চিত্র মহলে নানা গুঞ্জন শোনা যেত। কেউ ভাবতেন তিনি হয়তো অহংকারী, আবার কেউ মনে করতেন ব্যস্ততার কারণেই তিনি সময় পান না। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে মন খুলে কথা বলেছেন অভিনেতা। আর তাঁর সেই অকপট স্বীকারোক্তি সমাজমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল।

আমির জানান, কোনো ছবির প্রিমিয়ার বা স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ে না যাওয়ার পেছনে তাঁর কোনো অহংকার নেই, বরং লুকিয়ে রয়েছে এক চরম পেশাদারিত্ব এবং সততা। তাঁর কথায়, “যখন কোনো সহকর্মী বা বন্ধু আমাকে তাঁদের ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে আমন্ত্রণ জানান, তখন ছবি দেখার পর তাঁরা আমার কাছ থেকে সততার সঙ্গে রিভিউ বা প্রতিক্রিয়া জানতে চান। কিন্তু সমস্যা হলো, সব ছবি তো আর মনের মতো হয় না। যদি কোনো ছবি আমার ভালো না লাগে, তবে মুখের ওপর ‘ভালো হয়নি’ বলাটা যেমন সৌজন্যতাবোধের পরিপন্থী, ঠিক তেমনই সৌজন্যতা দেখাতে গিয়ে মিথ্যা প্রশংসা করাটাও আমার স্বভাবের বাইরে।”

আমির আরও যোগ করেন, মিথ্যা প্রশংসা করলে যেমন নির্মাতাদের ঠকানো হয়, তেমনই নিজের মনের কাছেও ছোট হতে হয়। আর এই উভয়সঙ্কট বা মানসিক দ্বন্দ্ব এড়াতেই তিনি ছবির বিশেষ প্রদর্শনীগুলোতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। কোনো ছবির আসল মূল্যায়ন যে টিকিট কেটেই হওয়া উচিত, তাও মনে করিয়ে দেন তিনি। বলিউডের এই প্রবীণ তারকার এমন সততা ও সোজাসাপ্টা মানসিকতা দেখে তাঁর প্রতি অনুগামীদের শ্রদ্ধা আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, তা বলাই বাহুল্য।