বিপাকে ১০০০ পরিবার! কাঁচামালের অভাব নাকি মালিকপক্ষের চাল? জুট মিল বন্ধ ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

নতুন বছরের শুরুটা যেখানে আনন্দের হওয়ার কথা ছিল, সেখানে চরম দুশ্চিন্তা আর হাহাকার গ্রাস করল কামারহাটির প্রবর্তক জুট মিলের শ্রমিকদের। বছরের প্রথম পাঁচ দিন কাটতে না কাটতেই কাজ হারালেন প্রায় এক হাজার শ্রমিক। আজ সকালে কাজে যোগ দিতে এসে মিলের গেটে ‘সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক’-এর নোটিশ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কর্মীরা। উত্তেজনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মিল চত্বর।
গেটে তালা, চোখে অন্ধকার মঙ্গলবার সকালে প্রাত্যহিক নিয়মে শ্রমিকরা কাজে এলে দেখেন মিলের মূল ফটক বন্ধ এবং সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ বন্ধের নোটিশ ঝুলছে। বছরের শুরুতে যখন সন্তানদের স্কুলের বেতন বা সংসারের নতুন খরচের চাপ থাকে, ঠিক সেই সময়েই এমন বিপর্যয়ে দিশেহারা শ্রমিকরা। অনেকেরই উপার্জনের একমাত্র রাস্তা ছিল এই জুট মিল।
মালিকপক্ষের যুক্তি বনাম শ্রমিকদের অভিযোগ মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, বাজারে কাঁচাপাটের আকাশছোঁয়া দাম এবং সরবরাহে ঘাটতির কারণে তারা উৎপাদনে লোকসান সামলাতে পারছে না। নোটিশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মিল চালানো অসম্ভব। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, মালিকপক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই অচলাবস্থা তৈরি করেছে। আগে সপ্তাহে পাঁচ দিন, তারপর চার দিন—এভাবেই ধীরে ধীরে মিলটিকে বন্ধের পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি পরিস্থিতি সামাল দিতে শ্রমিক নেতারা ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষের রুটিরুজি বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ সৌগত রায় এবং স্থানীয় বিধায়ক মদন মিত্রের দ্বারস্থ হবেন। সরকার দ্রুত মধ্যস্থতা না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিকরা। রাজ্যের জুট শিল্পে এই নতুন সঙ্কট শিল্পমহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।