BCCI না থাকলে টেস্টে জায়গাই পেত না বাংলাদেশ, জেনেনিন সেই ঘটনা

ইতিহাসের চাকা অদ্ভুতভাবে ঘোরে। ২৫ বছর আগে ২০০০ সালে যখন বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ ছিল ব্রাত্য, তখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট তথা ICC প্রধান জগমোহন ডালমিয়া একক প্রচেষ্টায় তাদের টেস্ট স্ট্যাটাস এনে দিয়েছিলেন। এমনকি বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট ম্যাচটিও ছিল ভারতের বিরুদ্ধে। কিন্তু আড়াই দশক পর আজ যেন সব হিসেব ওলটপালট। বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ‘হিন্দু নিধন’ বিতর্ককে কেন্দ্র করে ভারতের বিরুদ্ধেই যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)।

ঘটনার সূত্রপাত যেখানে: আসন্ন আইপিএল ২০২৬-এর জন্য ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েছিল কেকেআর। কিন্তু বাংলাদেশে ‘হাদি’র মৃত্যুর পর থেকে শুরু হওয়া হিন্দু-বিরোধী হিংসার প্রতিবাদে সরব হয় ভারত। চাপের মুখে বিসিসিআই ও আইসিসি-র হস্তক্ষেপে মুস্তাফিজকে ছেঁটে ফেলে কলকাতা নাইট রাইডার্স। একেই ‘জাতীয় অপমান’ হিসেবে দেগে দিয়ে ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ। আইপিএল সম্প্রচারও ইতিমধ্যেই ওপার বাংলায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জয় শাহ ফ্যাক্টর ও বাংলাদেশের ঝুঁকি: বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিসিবি-র এই সিদ্ধান্ত কার্যত ‘আত্মঘাতী’। কারণ:

  • শক্তিশালী চেয়ার: বর্তমান আইসিসি (ICC) চেয়ারম্যান হলেন জয় শাহ, যিনি একইসঙ্গে বিসিসিআই-এরও দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। ভারতের রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে থাকা জয়ের বিরুদ্ধে গিয়ে বাংলাদেশের খুব একটা লাভ হবে বলে মনে হয় না।

  • বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়: বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের ম্যাচ ছিল ইডেন ও ওয়াংখেড়েতে। তারা না এলে আইসিসি সহজেই তাদের বদলে অন্য কোনো দলকে সুযোগ করে দিতে পারে। এতে ভারতের আর্থিক ক্ষতি নগণ্য হলেও, বিশ্ব ক্রিকেটে একঘরে হয়ে পড়বে বাংলাদেশ।

কার লাভ, কার ক্ষতি? বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বোর্ড হিসেবে বিসিসিআই-এর কাছে বাংলাদেশের বয়কট বিশাল কোনো ধাক্কা নয়। কিন্তু আইসিসি-র অনুদান এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজ থেকে আসা উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশের জন্য এটি বড় আর্থিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইডেন গার্ডেন্সে ইংল্যান্ড বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খেলার যে সুযোগ বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা পেতেন, তা হারানো মানে সেদেশের ক্রিকেটের মান কয়েক ধাপ নিচে নেমে যাওয়া।

পদ্মার জল অনেক গড়িয়েছে, কিন্তু আবেগের বশে নেওয়া এই ‘বয়কট’ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না, এখন সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।