বছরের শুরুতেই বিরল ‘অঙ্গারকী যোগ’! এই ১টি কাজ করলেই কি খুলবে ভাগ্যের দরজা?

২০২৬ সালের শুরুতেই এক বিরল মহাজাগতিক ও ধর্মীয় সংযোগের সাক্ষী হতে চলেছে ভক্তকুল। পৌষ মাসের কৃষ্ণপক্ষের সংকষ্টি চতুর্থী আগামী ৬ জানুয়ারি, মঙ্গলবার পালিত হবে। শাস্ত্র মতে, মঙ্গলবার যখন চতুর্থী তিথি পড়ে, তখন তাকে ‘অঙ্গারকী চতুর্থী’ বলা হয়। নতুন বছরের প্রথম দিকেই এই শুভ যোগকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও বিরল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বাস করা হয়, এই বিশেষ দিনে নিষ্ঠাভরে বিঘ্নহর্তা গণেশের আরাধনা করলে জীবনের সমস্ত জটিল বাধা দূর হয় এবং সৌভাগ্যের উদয় ঘটে।

সংকষ্টি চতুর্থীর মাহাত্ম্য সনাতন ধর্মে যে কোনো মাঙ্গলিক কাজের সূচনা হয় গণপতি বন্দনার মাধ্যমে। তিনি যেমন সিদ্ধিদাতা, তেমনই সমস্ত অমঙ্গল বিনাশকারী। সংকষ্টি চতুর্থীর উপবাসকে গণেশ আরাধনার শ্রেষ্ঠ ব্রত হিসেবে গণ্য করা হয়। সারা দেশের কোটি কোটি ভক্ত এই দিনে উপবাস থেকে গজাননের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। মঙ্গলবারের সঙ্গে এই তিথির মিলনে গঠিত ‘অঙ্গারকী যোগ’ ঋণমুক্তি ও কোষ্ঠীর মঙ্গল দোষ কাটাতে বিশেষ কার্যকরী বলে ধরা হয়।

পৌরাণিক প্রেক্ষাপট পৌরাণিক কথা অনুসারে, মঙ্গল গ্রহ ভগবান গণেশের আশীর্বাদ পেতে কঠোর তপস্যা করেছিলেন। তাঁর ভক্তিতে তুষ্ট হয়ে গণেশ আশীর্বাদ করেন যে, মঙ্গলবার যদি চতুর্থী তিথি পড়ে, তবে তা ‘অঙ্গারকী চতুর্থী’ নামে পরিচিত হবে। এই দিনে পূজা করলে সারাবছরের সংকষ্টি ব্রতের সমান পুণ্য অর্জিত হয়।

শুভ সময় ও রাহু কাল ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে পূজার ক্ষেত্রে কিছু সময়ের দিকে নজর রাখা জরুরি। ওই দিন দুপুর ৩:০০ টা থেকে বিকেল ৪:৩০ টা পর্যন্ত রাহু কাল থাকবে। শাস্ত্রীয় মতে, এই সময় নতুন কোনো শুভ কাজ শুরু করা অশুভ। তবে রাহু কাল চলাকালীন গণেশ মন্ত্র জপ বা নামস্মরণে কোনো বাধা নেই।

পূজার নিয়ম ও আচার

ভোরে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে উপবাসের সংকল্প নিন।

সন্ধ্যায় গণেশের মূর্তিতে গঙ্গা জল বা শুদ্ধ জল দিয়ে অভিষেক করুন।

১০৮ বার ‘ওঁ গণ গণপতয়ে নমঃ’ মন্ত্র জপ করুন অথবা গণেশ অথর্বশীর্ষ পাঠ করুন।

বিঘ্নহর্তাকে লাল ফুল, দূর্বা ঘাস, ধূপ-দীপ এবং মোদক বা লাড্ডু নিবেদন করুন।

চন্দ্রোদয়ের গুরুত্ব সংকষ্টি চতুর্থীর ব্রত পূর্ণ হয় চন্দ্র দর্শনের মাধ্যমে। রাতে চন্দ্রোদয়ের পর অর্ঘ্য নিবেদন করে তবেই উপবাস ভঙ্গ করার নিয়ম। ২০২৬-এর এই প্রথম অঙ্গারকী চতুর্থী আমাদের জীবনে মানসিক শান্তি ও সাফল্যের বার্তা নিয়ে আসুক, এই কামনাই করেন ভক্তরা।