রেলে কনফার্মড টিকিট এজেন্ট ছাড়াই, ৮ ঘণ্টার নয়া নিয়ম রেলের, জানুন পদ্ধতি

সাধারণ রেলযাত্রীদের জন্য নতুন বছরের শ্রেষ্ঠ উপহার নিয়ে এল ভারতীয় রেল ও IRCTC। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, রিজার্ভেশন উইন্ডো খোলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এজেন্ট ও দালালরা সফটওয়্যারের মাধ্যমে সব টিকিট হাতিয়ে নেয়। এই অসাধু কারবার রুখতে সোমবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হলো রেলের ঐতিহাসিক ‘৮ ঘণ্টার নিয়ম’। এখন থেকে কনফার্ম টিকিট বুক করা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে।

রেলওয়ের নতুন নিয়ম কী? নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ট্রেনের অগ্রিম বুকিং (৬০ দিন আগে) যেদিন শুরু হবে, সেদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত শুধুমাত্র আধার-সংযুক্ত (Aadhaar-linked) IRCTC অ্যাকাউন্ট থেকেই টিকিট বুক করা যাবে। এর ফলে দালালরা ফেক আইডি বা অটোমেটিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে এক লপ্তে সব টিকিট কেটে নিতে পারবে না।

তিন ধাপে কার্যকর হবে এই ব্যবস্থা: ১. প্রথম ধাপ (২৯ ডিসেম্বর থেকে): আধার-সংযুক্ত ইউজাররা সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সুযোগ পেতেন। ২. দ্বিতীয় ধাপ (৫-৬ জানুয়ারি থেকে): সময় বাড়িয়ে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টে (৮ ঘণ্টা) করা হয়েছে। ৩. তৃতীয় ধাপ (১২ জানুয়ারি থেকে): আধার-সংযুক্ত ব্যবহারকারীরা সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অগ্রাধিকার পাবেন।

এজেন্টদের ক্ষমতা খর্ব: এই নিয়মের সবথেকে বড় চমক হলো, টিকিট বুকিংয়ের প্রথম দিন অর্থাৎ ‘উইন্ডো ওপেনিং ডে’-তে কোনো এজেন্ট টিকিট বুক করতে পারবেন না। এই বিশেষ ৮ ঘণ্টা সময় রাখা হয়েছে শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের জন্য। জেনারেল ক্যাটাগরির রিজার্ভেশনের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি অগ্রাধিকার পাবে।

আধার ছাড়া কি টিকিট মিলবে না? যাঁদের আধার লিঙ্ক নেই, তাঁরা এই বিশেষ ৮ ঘণ্টার উইন্ডো ব্যবহার করতে পারবেন না। সাধারণ প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাঁরা পরে টিকিট কাটার সুযোগ পাবেন। তবে আধার লিঙ্ক করা থাকলে নিরাপত্তা বাড়বে, কারণ টিকিট কনফার্ম করতে রেজিস্টার্ড মোবাইলে আসা OTP যাচাই করতে হবে।

কাউন্টার টিকিটের ক্ষেত্রেও বদল: শুধু অনলাইন নয়, স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট কাটলেও এখন আপনার মোবাইল ফোনে OTP আসবে। অর্থাৎ যাত্রীর মোবাইল নম্বরটি আধারের সঙ্গে লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক। বাড়ির অন্য সদস্য টিকিট কাটলেও যাঁর নামে আধার, তাঁর ফোনেই OTP যাবে।

কিভাবে আধার লিঙ্ক করবেন? আপনার IRCTC অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করে ‘My Profile’ সেকশনে যান। সেখানে ‘Aadhaar KYC’ অপশনটি বেছে নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিলেই কয়েক মিনিটে কাজ শেষ।

রেলের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে উৎসব বা বিয়ের মরসুমে টিকিট পাওয়ার দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমবে এবং দালাল রাজের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।