রাহুলের ইভিএম বিরোধিতায় বড় ধাক্কা! খোদ কংগ্রেস শাসিত কর্নাটকের সমীক্ষায় যা বেরোল, তাতে তোলপাড় দেশ

লোকসভা ভোট মিটে গেলেও ইভিএম (EVM) বিতর্ক থামার নাম নেই। বারবার ভোটযন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে বিরোধী শিবিরের তাবড় নেতারা। কিন্তু এবার সেই বিতর্ক সম্পূর্ণ নতুন মোড় নিল। সৌজন্যে খোদ কংগ্রেস শাসিত কর্নাটক সরকারের করানো একটি মেগা সমীক্ষা। সেই সমীক্ষার ফল বলছে— দেশের সাধারণ মানুষের সিংহভাগই এখনও ইভিএমের ওপর অগাধ আস্থা রাখেন।
সমীক্ষায় কী তথ্য উঠে এল?
কর্নাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ভি অনবুকুমারের তত্ত্বাবধানে ৫,১০০ জনের ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। বেঙ্গালুরু, মাইসুরু থেকে শুরু করে বেলাগাভির মোট ১০২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষ এতে অংশ নেন। ফলাফল যা এসেছে, তা চোখ কপালে তোলার মতো:
৮৩.৬১ শতাংশ মানুষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তাঁরা ইভিএম-কে বিশ্বাস করেন।
৬৯.৩৯ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, ইভিএমের ফলাফল একেবারেই নির্ভুল।
কালাবুরাগি বিভাগে আস্থার হার সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৮৩.২৪ শতাংশ।
রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির
সমীক্ষার এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই আসরে নেমেছে বিজেপি। কর্নাটক বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আর অশোক সরব হয়ে বলেছেন, “রাহুল গান্ধী এতদিন ধরে ইভিএম নিয়ে যে মিথ্যে প্রচার করেছেন, এই সমীক্ষা তার মুখে চপেটাঘাত। খোদ কংগ্রেস সরকারের করানো সমীক্ষাতেই মানুষ ইভিএমের পক্ষে রায় দিয়েছে।” বিজেপির দাবি, কংগ্রেস হারলে ইভিএমকে দোষ দেয়, আর জিতলে চুপ থাকে। কর্নাটকের মানুষের এই রায় প্রমাণ করে দিল যে সাধারণ মানুষ ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আস্থাশীল।
ব্যালট বনাম ইভিএম লড়াই
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সিদ্দারামাইয়া সরকার স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালট পেপার ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তকে ‘পিছিয়ে যাওয়ার রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, ব্যালট পদ্ধতি ফিরিয়ে এনে কারচুপি ও অপব্যবহারের রাস্তা খুঁজছে কংগ্রেস।
কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের এই সমীক্ষা এখন জাতীয় রাজনীতিতে বড় অস্ত্র হয়ে উঠল বিজেপির কাছে। এখন দেখার, নিজেদের সরকারের করানো এই সমীক্ষার পর ইভিএম নিয়ে রাহুলের অবস্থান কী হয়।