গরুর গাড়ির সেই ছোট্ট ছেলেটিই আজ দেশের গর্ব! পটাশপুরের মনির খানের ঢোলের জাদুতে মুগ্ধ সারা ভারত!

১১ বছর বয়সে যে ঢোলের হাতল ধরেছিলেন, সেই সুরের জাদুই আজ ৭৩ বছর বয়সে তাঁকে এনে দিয়েছে দেশজুড়ে খ্যাতি। তিনি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুরের পূর্ব খাড় গ্রামের বাসিন্দা মনির খান। অভাবের সংসার, দারিদ্র্যের কষাঘাত— কোনো কিছুই দমাতে পারেনি তাঁর প্রতিভাকে। আজ ছয় দশক পেরিয়েও ঢোলই তাঁর জীবনের একমাত্র ধ্রুবতারা।

মনির খানের সংগীত জীবনের শুরুটা ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। তাঁর বাবা মৈমুদ খান পেশায় ছিলেন গরুর গাড়ি চালক। বাবার সঙ্গে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘোরার সময় হাত দিয়ে গাড়ির গায়েই ছন্দ তুলতেন ছোট্ট মনির। ছেলের এই অদ্ভুত তালবোধ দেখে ১৯৬৩ সালে বাবা তাঁকে একটি ঢোল কিনে দেন। সেই থেকেই শুরু। এরপর গ্রামের কাওয়ালি দলের সঙ্গে দীর্ঘ ৩০ বছরের পথচলা। তাঁর জীবনের মোড় ঘোরে কলকাতার বিখ্যাত ওস্তাদ লাল খানের সংস্পর্শে এসে। তাঁর কাছেই শেখেন ঢোলের জটিল সব তাল ও কৌশল।

পটাশপুরের গণ্ডি ছাড়িয়ে মনিরের খ্যাতি পৌঁছেছে রাজস্থান থেকে সুদূর দেশান্তরে। তিনি কেবল একজন শিল্পীই নন, বরং এক আদর্শ শিক্ষক। বর্তমানে তাঁর হাতে তৈরি প্রায় ২০০ জন ছাত্র দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিষ্ঠিত ঢোল বাদক হিসেবে কাজ করছেন। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও, মনের জোরে আজও ঢোল নিয়ে মঞ্চ কাঁপান মনির খান। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি আজ এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01