মাসে ১৫ হাজার টাকা খরচ, মিলল নিথর দেহ! হালিশহরের নেশা মুক্তি কেন্দ্রে রহস্যমৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন, এই আশায় গত ২৮ আগস্ট কালনার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে (৪৪) ভর্তি করা হয়েছিল হালিশহরের একটি নেশা মুক্তি কেন্দ্রে। কিন্তু সুস্থ হওয়া তো দূরস্ত, বড়দিনের রাতে পরিবারের কাছে এল তাঁর মৃত্যুসংবাদ। পূর্ব বর্ধমানের কালনা পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিশ্বজিতের পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে ওই নেশা মুক্তি কেন্দ্রে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ: পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্বজিতের নেশার আসক্তি কাটাতে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে তাঁকে হালিশহরের ওই কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। গত ২৫ ডিসেম্বর আচমকাই কেন্দ্র থেকে ফোন করে জানানো হয়, বিশ্বজিৎ গুরুতর অসুস্থ। তাঁর শ্বাসকষ্টের সমস্যা হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়েই পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যান। কিন্তু সেখানে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও বিশ্বজিতের হদিস না পেয়ে তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হন। তখনই জানা যায়, বিশ্বজিৎ আর বেঁচে নেই।

রহস্যজনক অন্তর্ধান: বিশ্বজিতের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই ওই নেশা মুক্তি কেন্দ্রের কর্মীদের আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। মোবাইল বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্তরা। পরিবারের দাবি, বিশ্বজিতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। অসুস্থতার তত্ত্ব সাজিয়ে আসলে অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করছে সংস্থাটি।

এই ঘটনায় হালিশহর থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের পরিবার। নেশা মুক্তি কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা এবং পরিষেবা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল এই মর্মান্তিক ঘটনায়। দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে গোটা কালনা শহর।