“বিয়ের তিনদিন পরেই লাপাত্তা!” ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে রাহুল সিনহার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কেন এমন বললেন শমীক?

কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে এক বিরল মুহূর্তের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতির কারবারিরা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ১০১-তম জন্মজয়ন্তী পালন অনুষ্ঠানে বর্তমান রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মুখে শোনা গেল প্রাক্তন সভাপতি রাহুল সিনহার ভূয়সী প্রশংসা। দলের অন্দরে যখন ‘নব্য’ বনাম ‘পুরনো’ কর্মীদের নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, তখন রাহুল সিনহার লড়াইকে এক অনন্য উচ্চতায় বসালেন শমীক।
২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যখন বঙ্গ বিজেপি কার্যত রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বহীন ছিল, সেই সময় রাহুল সিনহা কীভাবে দাঁত কামড়ে মাটি পড়েছিলেন, সেকথা স্মরণ করান শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানান, দলের সর্বভারতীয় প্রাক্তন সভাপতি নীতিন গড়করি একবার ন্যাশনাল একজিকিউটিভের বৈঠকে বলেছিলেন যে, রাহুল সিনহার কাজের ধরন থেকে সমস্ত রাজ্যের সভাপতিদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে শমীক রাহুল সিনহার নিষ্ঠার এক মজার ও বিস্ময়কর তথ্য ফাঁস করেন। তিনি বলেন, “রাহুলদা বিয়ের মাত্র তিনদিন পরেই দলের কাজে বেরিয়ে গিয়েছিলেন এবং বাড়ি ফিরেছিলেন এক মাস পর। অন্য কোনও রাজ্য হলে এ নিয়ে বড় গন্ডগোল হয়ে যেত!” শমীকের এই রসিকতায় মঞ্চে উপস্থিত শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার সহ সারা হল হাসিতে ফেটে পড়ে। স্বয়ং রাহুল সিনহাও লাজুক হাসেন।
এর আগে নিজের বক্তব্যে রাহুল সিনহা ‘পুরনো কর্মী’ তকমা নিয়ে আপত্তি তোলেন। তিনি বলেন, “পুরনো মানেই ফেলে দেওয়ার জিনিস নয়। বরং দীর্ঘ অনুভবী কর্মী। কে আগে এসেছেন বা পরে, সেটা বড় কথা নয়; আসল প্রাধান্য হওয়া উচিত কর্ম ও যোগ্যতার।” শমীক ভট্টাচার্য তাঁর বক্তব্যে এটাই স্পষ্ট করে দেন যে, আজকের বিজেপি যে ক্ষমতার লড়াই লড়ছে, তার ভিত তৈরি করে দিয়ে গিয়েছেন রাহুল সিনহার মতো নেতারাই। রাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, শমীকের এই বক্তব্য আসলে দলের অন্দরে পুরনো অভিজ্ঞ কর্মীদের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার এক সুচিন্তিত বার্তা।