“মিডিয়ার বাড়াবাড়ি নয়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চরম বাস্তব!” কড়া বার্তা ভারতের

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমবর্ধমান হিংসা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে এবার নজিরবিহীনভাবে সুর চড়ালো ভারত। শুক্রবার এক উচ্চপর্যায়ের সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাফ জানিয়ে দেন, ওপার বাংলায় হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর মৌলবাদী শক্তির লাগাতার হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঢাকা যে এই ঘটনাগুলিকে ‘রাজনৈতিক অশান্তি’ বা ‘সংবাদমাধ্যমের অতিরঞ্জন’ বলে লঘু করার চেষ্টা করছে, ভারত সেই যুক্তিকেও এদিন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশেষ করে সংখ্যালঘু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের পাশবিক হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। ভিত্তিহীন ধর্মনিন্দার অভিযোগে তাঁকে পিটিয়ে মেরে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটিকে ‘চরম বর্বরতা’ বলে অভিহিত করে অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জয়সওয়াল। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালে সংখ্যালঘুদের ওপর প্রায় ২,৯০০টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।
অন্যদিকে, ১৭ বছর পর বিএনপি নেতা তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়েও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জয়সওয়াল। তিনি জানান, ভারত বরাবরই বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পক্ষপাতী। তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে শান্তি বজায় রাখতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা যে প্রধান শর্ত, তা মনে করিয়ে দিতে ভোলেনি সাউথ ব্লক। জয়সওয়ালের কথায়, “আমরা আশা করি বাংলাদেশ সরকার সে দেশের সংবিধান মেনে ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”