ফিরহাদ হাকিমই ‘বড় ওয়াকফ চোর’! তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নজিরবিহীন আক্রমণ নওশাদ সিদ্দিকীর

আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে মালদার মাটিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন ভাঙড়ের আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। চাঁচলের এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসটি ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর নির্মিত। আর এই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া ওয়াকফ আইন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো জোরালো প্রতিবাদ করছেন না বলে অভিযোগ তাঁর।

নওশাদ এদিন শুধু অভিষেক নন, রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকেও তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় ওয়াকফ সম্পত্তি লুটেরার নাম ফিরহাদ হাকিম।” তিনি আরও যোগ করেন, যদি তাঁর এই তথ্য ভুল হয় তবে সরকার যেন তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা করে। নওশাদের দাবি, ওয়াকফ ইস্যুতে তৃণমূল ও বিজেপি তলে তলে হাত মিলিয়ে নিয়েছে। নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীকেও ‘সব চোরের মাথা’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

তৃণমূল অবশ্য এই অভিযোগকে আমল দিতে নারাজ। মালদা জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন জানান, নওশাদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মানুষ এসব কথা বিশ্বাস করবে না। তবে নওশাদের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে শাসকদল আইনি পথে হাঁটবে কি না, তা নিয়ে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর আগে মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলোতে নওশাদ, হুমায়ুন কবীর ও ওয়েইসির সক্রিয়তা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড় ফাটল ধরাতে পারে।