“আইসি-র নামে নেওয়া হয়েছিল টাকা”, ঘুষের পর্দা ফাঁস করায় বালি মাফিয়া সাজিয়ে গ্রেফতারের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে।

পুলিশের ঘুষ নেওয়ার ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অপরাধে এক লরি মালিককে ‘মিথ্যা’ মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেফতার করার গুরুতর অভিযোগ উঠল বীরভূমের রামপুরহাট থানার বিরুদ্ধে। ধৃতের নাম এমদাদুল হোসেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সরব হয়েছে বীরভূম জেলা লরি মালিক সমিতি।

ঘটনার সূত্রপাত গত সেপ্টেম্বর মাসে। লরি মালিক এমদাদুল হোসেনের দাবি, মহম্মদবাজার থানা এলাকায় তাঁর দুটি বালি বোঝাই লরি আটকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা দাবি করে পুলিশ। থানার ভেতরেই সিভিল ড্রেসে থাকা এক ব্যক্তি ও এক পুলিশকর্মী আইসি প্রসেনজিৎ ঘোষের নাম করে সেই টাকা গ্রহণ করেন। এমদাদুল গোপনে সেই লেনদেনের ভিডিও রেকর্ড করে ভাইরাল করে দেন। জেলা পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানানো হলে তদন্তের পর দুই পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়।

লরি মালিক সমিতির সম্পাদক আনাস আহমেদের অভিযোগ, ওই ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই এমদাদুল ও তাঁর ওপর পুলিশি চাপ বাড়তে থাকে। বিভিন্ন থানায় এমদাদুলের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বালি মাফিয়া হওয়ার একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই পুরনো অভিযোগের ভিত্তিতেই বুধবার তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সমিতির দাবি, ঘুষের ভিডিও ফাঁসের বদলা নিতেই এই ‘প্রতিহিংসামূলক’ পদক্ষেপ। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। লরি মালিক সমিতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পুলিশের এই দাদাগিরির বিরুদ্ধে তারা ফের উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে। অন্যদিকে, পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন, আইন মেনেই গ্রেফতারি হয়েছে এবং যা বলার আদালতকেই জানানো হবে।