শত্রু নিধনে এবার ‘কিলার ড্রোন’ বাহিনী! রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দেখে রণকৌশল বদলাচ্ছে ভারতীয় সেনা

যুদ্ধের চেনা ছক দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ইউক্রেন এবং রাশিয়ার রণক্ষেত্রে কামানের গোলার চেয়েও বেশি কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে ড্রোনের মরণ আঘাত। আধুনিক যুদ্ধের এই ভোলবদল দেখে এবার নড়েচড়ে বসল ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army)। ট্যাঙ্ক বা যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি এবার একটি সম্পূর্ণ পৃথক ও সুসংগঠিত ‘ড্রোন বাহিনী’ (Drone Force) তৈরির মেগা পরিকল্পনা নিয়েছে দিল্লি। লক্ষ্য একটাই—যুদ্ধে মানুষের প্রাণহানি কমিয়ে প্রযুক্তির জোরে শত্রুকে ধুলিসাৎ করা।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই নতুন বাহিনী কেবল নজরদারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এতে থাকছে ‘কামিকাজে’ বা আত্মঘাতী ড্রোনের বিশেষ ইউনিট। এই ড্রোনগুলি যতক্ষণ না লক্ষ্যবস্তু খুঁজে পাচ্ছে, ততক্ষণ আকাশে চিল শকুনের মতো চক্কর কাটবে এবং সঠিক সময়ে লক্ষ্যবস্তুতে আছড়ে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটাবে। একসাথে ৫০ বা ১০০টি ড্রোনের একটি ‘সোয়ার্ম’ বা ঝাঁক যখন আক্রমণ করবে, তখন শত্রুর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা রাডারের পক্ষে তা আটকানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।

রণকৌশলের পাশাপাশি এই ড্রোন বাহিনী দুর্গম সিয়াচেন গ্লেসিয়ারের মতো এলাকায় মোতায়েন থাকা সেনাদের কাছে ওষুধ, খাবার ও গোলাবারুদ পৌঁছে দেওয়ার কাজও করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি এই ড্রোনগুলি শত্রু শিবিরের কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করতে দক্ষ। সেনাবাহিনীর এই ‘ডিজিটাল ফোর্সের’ ফলে একদিকে যেমন ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প এক ধাক্কায় অনেকটা এগিয়ে যাবে, তেমনই সীমান্তে চিনের মতো প্রতিপক্ষকে টেক্কা দেওয়াও অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।