বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর, মোদি-প্রিয়াঙ্কার বাগযুদ্ধে উত্তপ্ত সংসদ, ‘বঙ্কিমদা’ সম্বোধনে তুঙ্গে বিতর্ক!

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল মন্ত্র ‘বন্দে মাতরম’ আজ সার্ধশতবর্ষে পদার্পণ করল। কিন্তু ১৮৭৫ সালে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কলম থেকে বেরোনো এই গান আজও বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠতে পারল না। সম্প্রতি সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে এই গানকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মধ্যে যে বাদানুবাদ তৈরি হলো, তা দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি সংসদে দাঁড়িয়ে সরাসরি তোপ দাগেন জওহরলাল নেহরুর বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, মুসলিম লিগ ও মহম্মদ আলি জিন্নার চাপের কাছে মাথা নত করেই নেহরু বন্দে মাতরমকে ‘খণ্ডিত’ করেছিলেন। মোদির বক্তব্য অনুযায়ী, পদের লোভে নেহরু জিন্নার ভিত্তিহীন আপত্তির প্রতিবাদ করেননি, যার ফলে সম্পূর্ণ গানের পরিবর্তে মাত্র প্রথম দুটি অনুচ্ছেদকে জাতীয় গানের মর্যাদা দেওয়া হয়।

পাল্টা জবাবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, মোদি তথ্য বিকৃত করছেন। প্রিয়াঙ্কা জানান, ১৯৩৭ সালে খোদ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুই নেহরুকে চিঠি লিখে বন্দে মাতরম নিয়ে বিতর্কের অবসানের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং জানিয়েছিলেন যে, স্বাধীনতা সংগ্রামীরা প্রথম দুটি অনুচ্ছেদ গেয়েই আত্মবলিদান দিয়েছেন, তাই সেটুকুই জাতীয় গান হিসেবে যথেষ্ট।

তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর একটি অনিচ্ছাকৃত শব্দপ্রয়োগ। ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রকে সম্বোধন করতে গিয়ে মোদি দু’বার ‘বঙ্কিমদা’ বলে ফেলেন। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় তৎক্ষণাৎ এর প্রতিবাদ করেন। এই নিয়ে তৃণমূলের দাবি, এটি বাঙালি আবেগে আঘাত। অন্যদিকে বিজেপি একে অন্য প্রদেশের মানুষের অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে লঘু করার চেষ্টা করেছে। সব মিলিয়ে বন্দে মাতরমের ১৫০ বছরে জাতীয় গানকে ঘিরে রাজনীতির ময়দান এখন সরগরম।