ব্রিটিশদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ফের শুরু ১০০০ বছরের প্রাচীন মেলা! তাম্রলিপ্ত রাজবাড়িতে ঐতিহ্যের জোয়ার

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ইতিহাসের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে বীরত্ব আর ঐতিহ্যের কাহিনী। সেই ইতিহাসেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো তাম্রলিপ্ত রাজবাড়ি। আর এই রাজবাড়ির প্রাঙ্গণেই প্রতি বছর ডিসেম্বরের শেষে বসে এক হাজার বছরের প্রাচীন মেলা— ‘তাম্রলিপ্ত জনস্বাস্থ্য ও কুটির শিল্প মেলা’। ৯৭৫ বছরেরও বেশি পুরনো এই মেলা যেমন ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ, তেমনই এর প্রেক্ষাপটে রয়েছে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক রোমহর্ষক ইতিহাস।

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জানা যায়, রাজবংশের ৩৫তম রাজা শ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ রায় প্রায় ১০০০ বছর আগে স্থানীয় কৃষিকাজের উন্নতির লক্ষ্যে এই মেলা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম কেন্দ্র তমলুক হওয়ায়, রাজবাড়ির এই জমায়েতকে ভয় পেত ব্রিটিশ শাসকরা। ফলে ব্রিটিশদের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল এই মেলা। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে রাজ পরিবারের বর্তমান বংশধর তথা তাম্রলিপ্ত পৌরসভার চেয়ারম্যান ড. দীপেন্দ্র নারায়ন রায়ের উদ্যোগে ফের নতুন আঙ্গিকে শুরু হয় এই উৎসব।

এই মেলার গুরুত্ব এতটাই যে, ভারতীয় ডাক বিভাগ ইতিপূর্বেই মেলার নামে বিশেষ ডাকটিকিট ও খাম প্রকাশ করেছে। বর্তমানে এই মেলা কেবল কেনাকাটার জায়গা নয়, বরং দেশ-বিদেশের সংস্কৃতির এক মিলনমেলা। এবারের মেলায় প্রায় ১২টি দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন এবং আয়োজিত হচ্ছে বিশেষ সেমিনার। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা এই মেলা ঘিরে এখন কার্যত উৎসবের মেজাজ রূপনারায়ণের তীরে। ঐতিহ্যের ছোঁয়া আর আধুনিক কুটির শিল্পের এই মেলবন্ধন দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।