“পরিচ্ছন্নতা অভিযান”-এর আড়ালে আয়কর হানা! কাটনিতে বিজেপি নেতা ও খনি ব্যবসায়ীদের ডেরায় গোয়েন্দাদের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’।

মধ্যপ্রদেশের কাটনি জেলায় অবৈধ খনন এবং আয়কর ফাঁকির বিরুদ্ধে এক বিশাল অভিযানে নেমেছে আয়কর দফতর। গত চার দিন ধরে চলা এই অভিযানে ঘুম উড়েছে এলাকার প্রভাবশালী খনি ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের। খনি ব্যবসায়ী জগদীশ প্যাটেল এবং তাঁর ভাগ্নে সন্তোষ প্যাটেলের একাধিক বাসভবন, অফিস ও হোটেলে একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছে আয়কর বিভাগের বিশেষ দল।

ছদ্মবেশে অভিযান: ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযান’-এর পোস্টার এই অভিযানের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো আয়কর কর্তাদের গোপনীয়তা। প্রায় ৫০ জনেরও বেশি আধিকারিক তাঁদের গাড়িতে ‘পরিচ্ছন্নতা সচেতনতা অভিযান ২০২৫’-এর পোস্টার লাগিয়ে ব্যবসায়ীদের ডেরায় পৌঁছে যান, যাতে কারোর মনে কোনো সন্দেহ না জাগে।

বিজেপি নেতার সঙ্গে যোগসূত্র তদন্তের জাল ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলেও। কয়েকদিন আগেই বিজেপি নেতা তথা জেলা পঞ্চায়েতের সহ-সভাপতি অশোক বিশ্বকর্মা এবং তাঁর তিন ভাইয়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল আয়কর দফতর। সেই তল্লাশিতেই জগদীশ প্যাটেল এবং সন্তোষ প্যাটেলের সঙ্গে অবৈধ খনি ব্যবসার গভীর যোগসূত্র খুঁজে পান গোয়েন্দারা। মূলত অশোক বিশ্বকর্মার ডেরায় মেলা তথ্যের ভিত্তিতেই জগদীশ প্যাটেলের বাড়িতে এই হানা।

ভোপাল ও জব্বলপুরের যৌথ হানা আয়কর ফাঁকি, অবৈধ লেনদেন এবং বেনামি সম্পত্তি সংক্রান্ত কয়েক বস্তা নথি ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করেছেন ভোপাল এবং জব্বলপুর থেকে আসা গোয়েন্দারা। সুধার ন্যায় কলোনিতে জগদীশ প্যাটেলের বাসভবনে বর্তমানে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

কাটনির রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলে এই অভিযান চরম আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তদন্ত শেষ হলে অবৈধ খনি ব্যবসার নেপথ্যে আরও অনেক বড় মাথা এবং কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।