দেওর-বউদির পরকীয়ার কাঁটা সরাতেই ‘খুন’! আলিগড়ে লোডার চালক শচীন খুনের কিনারা করল পুলিশ।

প্রেমের পথে বাধা হওয়া স্বামীকে সরিয়ে দিতে নিজের দেওরের সঙ্গেই হাত মেলালেন স্ত্রী। উত্তরপ্রদেশের আলিগড় জেলার হরদুয়াগঞ্জ থানা এলাকার দীনদয়ালপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ৪ মাস পর পর্দা তুলল পুলিশ। লোডার চালক শচীন খুনের অভিযোগে তাঁর স্ত্রী মধু এবং ছোট ভাই ধর্মেন্দ্র প্রতাপকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পরকীয়া যখন খুনের কারণ পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক গভীর পরকীয়া সম্পর্কের কাহিনী। শচীনের অনুপস্থিতিতে তাঁর অবিবাহিত ছোট ভাই ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন মধু। শচীন বিষয়টি জানতে পারার পর থেকেই বাড়িতে শুরু হয়েছিল প্রবল অশান্তি। নিজের ভাই ও স্ত্রীর এই সম্পর্কের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন শচীন। আর সেই বিরোধিতাই তাঁর জীবনের কাল হয়ে দাঁড়াল।

যেভাবে ঘটল সেই কালরাত গত ১১ই আগস্ট রাতে শচীন মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ফেরেন। রাতের খাবারের পর তিনি ঘুমাতে গেলে মধু ও ধর্মেন্দ্র তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। পুলিশ স্টেশন অফিসার কুলবীর সিং জানান:

“অভিযুক্তরা জানিয়েছে, শচীন মদ্যপ থাকায় প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন। সেই সময় মধু তাঁর পা চেপে ধরেন এবং ধর্মেন্দ্র গলার নলি টিপে শ্বাসরোধ করে দাদাকে হত্যা করেন।”

আত্মহত্যার নাটক সাজাতে গিয়েই বিপত্তি খুন করার পর ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল এই খুনি যুগল। তাঁরা শচীনের দেহটি দড়িতে ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মাঝপথে দড়ি ছিঁড়ে গিয়ে দেহটি মাটিতে পড়ে যায় এবং শচীনের মাথায় গভীর চোট লাগে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা যায়, মৃত্যুর কারণ ফাঁস নয় বরং শ্বাসরোধ করে হত্যা। এরপর থেকেই পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ে পরিবারের ওপর।

পুলিশের জালে পলাতক আসামীরা তদন্ত শুরু হতেই মধু ও ধর্মেন্দ্রর সম্পর্কের রসায়ন পুলিশের নজরে আসে। পুলিশি তৎপরতা বাড়তেই ১৫ দিন আগে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র ও মধু। দীর্ঘ ৪ মাস ধরে সূত্র জোগাড় করে অবশেষে পুলিশ তাঁদের অবস্থান খুঁজে বের করে এবং দু’জনকেই গ্রেফতার করে জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে।

আলিগড়ের এই ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করে দিল যে, অপরাধ করে সাময়িকভাবে পার পাওয়া গেলেও আইনের হাত থেকে নিস্তার পাওয়া অসম্ভব।