দুর্বল ‘লা নিনা’র পূর্বাভাস দিল নাসা, বদলে যাবে বিশ্ব আবহাওয়া, ভারতে কি এবার প্রবল বৃষ্টি?

টানা দাবদাহ আর বিশ্ব উষ্ণায়নের দাপটে যখন নাজেহাল সাধারণ মানুষ, ঠিক তখনই এক স্বস্তির খবর শোনাল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ২০২৫ সালে প্রশান্ত মহাসাগরে একটি ‘লা নিনা’ (La Niña) পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, এবারের এই লা নিনা খুব একটা শক্তিশালী নয়, বরং কিছুটা ‘দুর্বল’। কিন্তু দুর্বল হলেও এর প্রভাব হবে বিশ্বব্যাপী সুদূরপ্রসারী।
কী এই লা নিনা? কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
লা নিনা হলো জলবায়ুর এমন একটি প্রাকৃতিক চক্র, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের জল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ঠান্ডা হয়ে যায়। এর ফলে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত শক্তিশালী ‘এল নিনো’র প্রভাবে পৃথিবী উত্তপ্ত হয়, আর তার ঠিক পরেই ‘লা নিনা’ এসে তাপমাত্রা কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।
ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব: বৃষ্টির পূর্বাভাস
ভারতীয় উপমহাদেশের জন্য লা নিনা সাধারণত আশীর্বাদ হয়ে আসে। নাসার রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই দুর্বল লা নিনার প্রভাবে ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে মৌসুমি বৃষ্টিপাত ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি যেহেতু দুর্বল, তাই অতিবৃষ্টি বা ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা শক্তিশালী লা নিনার মতো ততটা বেশি নয়।
বিশ্ব উষ্ণায়ন কি কমবে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লা নিনা সাময়িকভাবে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করবে ঠিকই, কিন্তু এর মানে এই নয় যে বিশ্ব উষ্ণায়নের দীর্ঘমেয়াদি বিপদ কেটে গেছে। নাসার বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, এটি একটি সাময়িক স্বস্তি মাত্র। ২০২৫ সালে তাপমাত্রা বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বড় বিপদটি থেকেই যাচ্ছে।
শীত ও সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তন
লা নিনার প্রভাবে উত্তর গোলার্ধে, বিশেষ করে কানাডা এবং উত্তর আমেরিকায় এবার তুষারপাত ও ঠান্ডার প্রকোপ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার ক্ষেত্রেও সীমিত পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বাণিজ্যিক বায়ুর প্রভাবে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের অংশে জলস্তর সামান্য বাড়তে পারে।
নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, এই দুর্বল লা নিনা কৃষি ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে হঠাৎ বড় ধরনের কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিটি দেশকে আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।