মুঠোফোনে বন্দি শৈশব! জেদ সামলাতে বাচ্চার হাতে ফোন দিচ্ছেন? পটাশপুরের স্কুলের এই নাটক চোখ খুলে দেবে অভিভাবকদের!

বর্তমান যুগে শিশুদের খাওয়া থেকে শুরু করে ঘুম— সব কিছুতেই স্মার্টফোন এখন অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। কিন্তু এই ‘স্মার্ট’ অভ্যাসই যে তিলে তিলে খুদেদের অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, সেই কঠোর বাস্তব এবার নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরল পটাশপুরের ইটাচনা প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই অভিনব উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
নাটকের মঞ্চে কঠিন বাস্তব: বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়েই এই সচেতনতামূলক নাটকের আয়োজন করা হয়। নাটকের গল্পে দেখা যায়:
আসক্তির শুরু: একটি ছোট মেয়ে ঘুম থেকে ওঠা থেকে স্কুল যাওয়া পর্যন্ত ফোনের জন্য বায়না করে। মেয়ের জেদের কাছে হার মেনে মা তার হাতে ফোন তুলে দেন।
ভয়াবহ পরিণতি: ধীরে ধীরে মেয়েটি পড়াশোনা ও খেলাধুলা ভুলে ফোনে বুঁদ হয়ে যায়। একদিন সকালে তার চোখ জ্বালা ও প্রচণ্ড মাথা ব্যথা শুরু হয়। চিকিৎসক জানান, অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের ফলে তার দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই করুণ দৃশ্য দেখে উপস্থিত কচিকাঁচাদের চোখেমুখে ভয়ের ছাপ ছিল স্পষ্ট। তারা বুঝতে পারে, রঙিন পর্দার ওপারে লুকিয়ে আছে কত বড় বিপদ।
শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমন কল্যাণ প্রধান জানান, শুধু শিশুদের বকাঝকা করলেই হবে না, অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। চিকিৎসকরাও বলছেন, ব্যস্ততার অজুহাতে বাচ্চার হাতে ফোন তুলে দেওয়া আসলে বিষ দেওয়ার সমান।
সন্তানের ফোন আসক্তি ছাড়ানোর টিপস: ১. জেদ প্রশ্রয় নয়: কান্নাকাটি করলেও ফোনের আবদার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করতে শিখুন। ২. গুণগত সময়: দিনে অন্তত কিছুটা সময় বাচ্চার সঙ্গে খেলুন বা গল্প করুন। ৩. বিকল্প অভ্যাস: ফোনের বদলে হাতে আঁকার সরঞ্জাম, গল্পের বই বা ‘লার্নিং টয়’ তুলে দিন। ৪. ধৈর্য ধরুন: রাতারাতি অভ্যাস বদলাবে না, তবে ধীরে ধীরে তাদের সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখলে সুফল মিলবেই।
বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন অভিভাবকরাও। তাঁদের মতে, ব্ল্যাকবোর্ডের পড়ার চেয়ে এই ধরণের চাক্ষুষ শিক্ষা শিশুদের মনে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে।