সরকারি পুকুরেই মিলল লক্ষ্মীর খোঁজ! দুর্গাপুরের ১০ মহিলার মাছ চাষে বাজিমাত, স্বনির্ভরতার নয়া দিশা ‘যমুনা’ মডেলে!

ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়— এই প্রবাদকেই সত্যি করে দেখালেন দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের যমুনা গ্রামের একদল দুঃস্থ পরিবারের মহিলা। আজ থেকে প্রায় ৭ বছর আগে ১০ জন মিলে গড়ে তুলেছিলেন ‘যমুনা মা দুর্গা স্বনির্ভর গোষ্ঠী’। আজ তাঁরা কেবল গৃহিণী নন, তাঁরা সফল মৎস্যচাষী। রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় সরকারি জলাশয়ে মাছ চাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন এই মহিলারা।

সাফল্যের পেছনের গল্প: যমুনা গ্রামে পঞ্চায়েতের প্রায় এক বিঘা জমির ওপর একটি পরিত্যক্ত পুকুর ছিল। ইছাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে ওই জলাশয়টি এই মহিলা গোষ্ঠীকে মাছ চাষের জন্য লিজ দেওয়া হয়।

সরকারি সাহায্য: পঞ্চায়েত শুধু পুকুর দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি, কয়েক দফায় ২০ থেকে ৪০ কেজি মাছের চারাও তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

আয়ের উৎস: বর্তমানে এই পুকুরে রুই, কাতলা সহ বিভিন্ন দেশি মাছের চাষ করছেন মহিলারা। বড় মাছ বাজারে বিক্রি করে যে লাভ হচ্ছে, তা দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসারের বাড়তি খরচ সামলাচ্ছেন তাঁরা।

আগামীর পরিকল্পনা ও সমস্যা: দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পুকুরটির গভীরতা কিছুটা কমেছে। মহিলারা দাবি তুলেছেন, জলাশয়টি পুনরায় খনন করা হলে মাছের ফলন আরও বাড়বে। ইছাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আশ্বাস দিয়েছেন, ১০০ দিনের কাজ শুরু হলেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই পুকুর সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হবে।

রাজ্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগ: পশ্চিমবঙ্গ সরকার মহিলাদের স্বনির্ভর করতে রাজ্যজুড়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা SHG তৈরির ওপর জোর দিয়েছে। বর্তমানে কেবল মাছ চাষ নয়, মহিলারা নানাভাবে আয়ের পথ খুঁজে নিচ্ছেন: ১. স্কুল ইউনিফর্ম: বহু জায়গায় স্কুল ড্রেস তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গোষ্ঠীর মহিলাদের। ২. অঙ্গনওয়াড়ি সরবরাহ: চাল, ডাল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের কাজেও তাঁদের যুক্ত করা হয়েছে। ৩. বৈচিত্র্যময় চাষ: মাশরুম চাষ, হাঁস-মুরগি পালন এবং আচার-বড়ি তৈরির মতো কাজেও মহিলারা সরকারি ঋণ ও প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন।

যমুনা গ্রামের এই মহিলারা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, সঠিক সুযোগ ও সরকারি সহযোগিতা পেলে পিছিয়ে পড়া পরিবারের নারীরাও অর্থনীতির মূল স্রোতে সামিল হতে পারেন।