পারিবারিক ঝগড়ার করুণ পরিণতি! বাবার খোঁজে বেরিয়ে বাঁকুড়ার রাস্তায় ঝরল দুটি প্রাণ, চিরতরে হারিয়ে গেলেন বুধন!

পারিবারিক বিবাদ কীভাবে এক নিমেষে একটি সাজানো পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে, বাঁকুড়ার ছাতনায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাটি তারই সাক্ষী থাকল। স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে বাড়ি ছেড়েছিলেন বাবা। তাঁকে খুঁজতে বেরিয়ে মোটর বাইক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ছেলে ও তাঁর এক বন্ধু। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক যুবক।
ঘটনার সূত্রপাত: পুরুলিয়ার সাঁতুড়ি থানার ঘোড়ামুর্গা গ্রামের বাসিন্দা বুধন মন্ডল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল দুপুরে বুধনের বাবার সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর ঝগড়া হয়। অভিমানে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান বৃদ্ধ বাবা। সন্ধ্যা পার হয়ে গেলেও তিনি না ফেরায় চিন্তায় পড়েন বুধন। বাবার সন্ধানে গ্রামের দুই বন্ধু বিপদ তারণ ঘোষাল ও বাপি ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে বাইকে করে বের হন তিনি।
গভীর রাতের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: বাবা বাঁকুড়ার দিকে গিয়ে থাকতে পারেন, এই অনুমান করে তিন বন্ধু সেখানে খোঁজ চালান। কোথাও তাঁর হদিশ না পেয়ে হতাশ হয়ে গভীর রাতে তাঁরা বাইকে চেপে গ্রামে ফিরছিলেন। ছাতনা থানার তিলনা এলাকায় একটি দ্রুতগামী ডাম্পারের সঙ্গে তাঁদের বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে তিনজনেই রাস্তা থেকে ছিটকে পড়েন।
হাসপাতালের রিপোর্ট: খবর পেয়ে ছাতনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে উদ্ধার করে ছাতনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকরা বুধন মন্ডল এবং বিপদ তারণ ঘোষালকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্য সঙ্গী বাপি ঘোষের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
একটি তুচ্ছ ঝগড়া থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনা যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি ঘোড়ামুর্গা গ্রামের বাসিন্দারা। দুর্ঘটনার খবর পৌঁছাতেই গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিন যুবকের পরিবার ও আত্মীয়দের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস।