উত্তরাধিকার সূত্রে আর নয় সমান ভাগ? এক মেয়ের মামলার প্রেক্ষিতে সম্পত্তিতে ‘উইল’-এর ক্ষমতা বোঝাল সুপ্রিম কোর্ট!

পৈতৃক সম্পত্তিতে অধিকার নিয়ে এক যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানউল্লাহ এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তি আইনত ‘উইল’ বা দানপত্র করে যান, তবে সেখানে তাঁর ইচ্ছাই সর্বোচ্চ। এই মামলার প্রেক্ষিতে এন এস শ্রীধরন নামে এক ব্যক্তির কন্যা শায়লা জোসেফকে তাঁর বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত থাকার নির্দেশ দিল আদালত।

মামলার প্রেক্ষাপট ও কেন বঞ্চিত হলেন শায়লা? এন এস শ্রীধরন তাঁর উইলে ৯ সন্তানের মধ্যে ৮ জনকে সম্পত্তি দিলেও শায়লাকে বঞ্চিত করেন। কারণ হিসেবে জানা যায়, শায়লা তাঁর সম্প্রদায়ের বাইরে ভিন্ন ধর্মে বা গোষ্ঠীতে বিয়ে করেছিলেন।

হাইকোর্টের রায়: এর আগে ট্রায়াল কোর্ট ও হাইকোর্ট এই উইলটির ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেছিল এবং ৯ সন্তানকেই সমান ভাগে সম্পত্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ: শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের সেই রায় খারিজ করে দেয়। আদালতের মতে, উইলটি যথাযথভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং এতে উইলকারীর (পিতা) ব্যক্তিগত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে।

সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ: আদালত এই মামলায় কয়েকটি মৌলিক আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছে যা সাধারণ মানুষের জানা জরুরি: ১. ইচ্ছাই সর্বোচ্চ: উইল বা দানপত্র হল একজন ব্যক্তির শেষ ইচ্ছা। যদি সেটি আইনত বৈধ হয়, তবে আদালত সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ২. সমতার প্রশ্ন নয়: শায়লার আইনজীবী সমতার দাবি তুললেও আদালত জানায়, নিজের অর্জিত সম্পত্তি কাকে দেবেন বা দেবেন না, সেটি দাতার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এখানে জোর করে সমতা আনা যায় না। ৩. বিচক্ষণতার সীমাবদ্ধতা: যদি উইলকারী তাঁর সব সন্তানকে বঞ্চিত করতেন, তবে আদালত ‘বিচক্ষণতা’ প্রয়োগ করতে পারত। কিন্তু এখানে তিনি সুনির্দিষ্ট কারণে একজনকে বাদ দিয়েছেন, যা তাঁর আইনগত অধিকার।

উপসংহার: সুপ্রিম কোর্টের এই রায় পরিষ্কার করে দিল যে, পৈতৃক সম্পত্তির ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার আইন থাকলেও, যদি বৈধ ‘উইল’ থাকে, তবে উইলকারীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। ভিন্ন সম্প্রদায়ে বিয়ে করার কারণে পিতাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার যে অধিকার উইল দেয়, তাকেই মান্যতা দিল শীর্ষ আদালত।