উদ্ভিদবিদ্যায় পিএইচডি থেকে দিল্লির দরবারে! জানুন অধ্যাপক সুকান্ত মজুমদারের শিক্ষাগত যোগ্যতার অবাক করা ইতিহাস!

বাংলার রাজনীতিতে তিনি এখন অন্যতম পরিচিত মুখ। কখনও মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কখনও আবার সংসদ ভবনে শিক্ষানীতি নিয়ে বক্তব্য রাখছেন। তিনি বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আরএসএস-এর সঙ্গে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের হলেও, সরাসরি রাজনীতিতে আসার পর অত্যন্ত দ্রুত গতিতে উত্থান হয়েছে তাঁর। তবে রাজনীতির হট্টগোলের বাইরেও তাঁর একটি বড় পরিচয় আছে— তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত অধ্যাপক ও গবেষক।বালুরঘাটের সাধারণ ছেলে থেকে বটানির অধ্যাপক:সুকান্ত মজুমদারের শিক্ষা জীবনের শুরু এবং বেড়ে ওঠা উত্তরবঙ্গের বালুরঘাটেই। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার গ্রাফটি লক্ষ্য করার মতো:স্কুল জীবন: ১৯৯৮ সালে বালুরঘাটের খাদিমপুর হাইস্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন তিনি।স্নাতক (B.Sc): ২০০৩ সালে বালুরঘাট কলেজ থেকে উদ্ভিদবিদ্যা বা বটানি নিয়ে স্নাতক হন।স্নাতকোত্তর (M.Sc): ২০০৫ সালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি সম্পূর্ণ করেন।গবেষণা ও পিএইচডি (Ph.D): ২০১৮ সালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই উদ্ভিদবিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বটানি বিভাগের জনপ্রিয় অধ্যাপক ছিলেন। উদ্ভিদবিদ্যা নিয়ে তাঁর একাধিক আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপত্রও রয়েছে।রাজনীতিতে প্রবেশ ও বিবর্তন:অধ্যাপনার শুরুতেই সুকান্ত মজুমদার অনিচ্ছাকৃতভাবেই তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুপা-র সদস্য হয়েছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেই সময় অধ্যাপক হিসেবে একটি সংগঠন বেছে নিতে হতো বলেই তিনি এটি বেছেছিলেন, পরে সংগঠনটির আসল রূপ বুঝে যোগাযোগ ছিন্ন করেন। বর্তমানে বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব সামলানোর পর তিনি মোদী সরকারের শিক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।চক হাতে আজও সেই শিক্ষক:রাজনীতিতে ব্যস্ততা বাড়লেও শিক্ষক সত্তা আজও সুকান্ত মজুমদারের মধ্যে জীবিত। সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল যেখানে দেখা গিয়েছে, সময় পেয়েই ক্লাসরুমে ঢুকে ব্ল্যাকবোর্ডে চক হাতে নিয়ে পড়াতে শুরু করেছেন তিনি। রাজনীতিক সুকান্তর চেয়েও ‘শিক্ষক সুকান্ত’ আজও ছাত্রছাত্রীদের কাছে বেশি প্রিয়।একনজরে সুকান্ত মজুমদারের শিক্ষাগত প্রোফাইল:ডিগ্রিশিক্ষা প্রতিষ্ঠানবছরউচ্চমাধ্যমিকখাদিমপুর হাইস্কুল১৯৯৮স্নাতক (বটানি)বালুরঘাট কলেজ২০০৩এমএসসিউত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়২০০৫পিএইচডিউত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়২০১৮