কংগ্রেস নেতার ৮ কোটির সম্পত্তি ওড়াল ইডি! বাল্মীকি কেলেঙ্কারিতে বড় ধাক্কা প্রাক্তন মন্ত্রী নাগেন্দ্রর!

কর্ণাটকের বহুচর্চিত ‘বাল্মীকি উন্নয়ন কর্পোরেশন’ কেলেঙ্কারিতে এবার বড়সড় অ্যাকশন নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। শুক্রবার কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, কর্ণাটকের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা বি. নাগেন্দ্রের প্রায় ৮.০৭ কোটি টাকার সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাজেয়াপ্ত সম্পদের তালিকায় কী কী? ইডির রিপোর্ট অনুযায়ী, বি. নাগেন্দ্রের যে সম্পত্তিগুলো ক্রোক করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:

আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি: মোট চারটি বড় মাপের সম্পত্তি।

বিশাল ভবন: একটি বহুতল ভবন যা দুর্নীতির টাকায় কেনা বলে মনে করছে ইডি।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এগুলো সবই ‘অপরাধের আয়’ বা প্রোসিডস অফ ক্রাইম। তবে বাকি অর্থের হদিশ এখনও মেলেনি, যা প্রাক্তন মন্ত্রী কোথাও লুকিয়ে রেখেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

কী এই বাল্মীকি কেলেঙ্কারি? এটি কর্ণাটকের একটি বড় মাপের আর্থিক জালিয়াতি মামলা। অভিযোগ রয়েছে:

তফশিলি উপজাতি (ST) সম্প্রদায়ের কল্যাণের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৯৪ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে নয়ছয় করা হয়েছে।

ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের একটি কর্পোরেট অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়ে একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।

এই দুর্নীতির দায় মাথায় নিয়ে বি. নাগেন্দ্রকে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করতে হয় এবং পরে তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

ইডির হুঁশিয়ারি: ইডির বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে যারা ব্যক্তিগত সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। কর্ণাটক পুলিশ এবং সিবিআই-এর দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতেই এই তদন্তের জাল আরও গভীরে ছড়াচ্ছে।

তফশিলি উন্নয়ন তহবিলের টাকা নয়ছয় করার এই অভিযোগে এখন রীতিমতো অস্বস্তিতে কর্ণাটকের সিদ্দারামাইয়া সরকার। অন্যদিকে, এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর বি. নাগেন্দ্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যে আরও সংকটে পড়ল, তা বলাই বাহুল্য।